Monday, December 1, 2014

বসন্তপর্যায় (আরো)



বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
রুদ্ধ করে দিলে আর শ্বাস করে
দিলে  আর আমরা আমাদের সবুজ ছায়া সমেত
কাঠের চেয়ারে একটু উদগ্র 
ঝুঁকে
টেবিলে সম্পর্ক রাখা
আর সম্পর্ক বড় হতে হতে

গিলে ফেলছে আমাদের
পকেটে হাত  রেসকোর্সে  নিজাম প্যালেসে
শিসে আর অগোচরে  উগরে দিচ্ছে
হাতঘড়ি বাউটি এমন কী আমাদের
প্রচুর পার্থক্যগুলো
সিনট্যাক্সের জটিলতাগুলো

ওয়ার্ডপ্রসেসর থেকে একটা
জানলা খুলে ভোর হচ্ছে
একটা খুব আলোমত কার্সার
ডেকে উঠছে মোরগের বদলে

এমনকী লঘুতা থেকে
গুরু হতে যাচ্ছে বসন্ত
ঘুম এসে ফিরে গেল তবু

করলে না ভালো 

বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
একটা কমলা পারা ডাক
দিলে      জলে ও বিন্যাসে
ধবধবে বিছানায়              লাল অন্ধকার
আয়ত পর্ণমোচী আর      নিমেষের মত ঝরে পড়া

করলে না ভালো তুমি চেয়ে তো
দেখলে না নিসর্গে অতীতে যেটুকু ছিল না
অস্বীকারে ঠিক রয়ে গেছে

অবসর থেকে মুখ ফেরা        নেমে গেলে
চিড়িকপতিংগা
আঙ্গুলের খুরাফাত থেকে   ভেজা
বিস্তার থেকে জরা

থেকে চর্চা ও ছই
থেকে নদীর কাঠামো
থেকে পিস্তল শানিয়ে
নেমে গেলে...


বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
মোমের ভেতর তুমি গালার ধারণা নিয়ে
অভিজ্ঞান হলে    নাখুন নাড়লে
একটা হলুদ লোকগানে ঝাঁপ দিয়ে
অস্পষ্ট হলে  অথচ শীতকাল চলে এল আর
ভাস্কর হল না  তিনমাস   তন্দ্রায় কেটে
গেল নিজের ছায়ার সাথে করমর্দনে
কেটে গেল 
একটা সংস্থাপন থেকে অন্য আচরণে
নতি গেঁথে চলে গেল 
ভালো লাগিল না ভালে  কেবল
কপাল থেকে এক বিন্দু
জ্বালা করে ওঠে

বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
মস্তক থেকে নীচু উঠে গেলে রোদ ও প্রখর
জ্বর এল ৯৯.৫ অব্দি নব ঘুরল আর ঘুরল না
সড়াইলা কুকুরের মত স্রেফ জেদে জেদে বিলুপ্ত

হলে এমন কী বিতরণ ব্যবস্থাও আর ভ্যালিড
থাকল না জলে সমতলে পাহাড়ে প্রাকীরে
ক্রাইসিস থেকে অদম্য শিস দিল আর বলতে কী
আমার কবিতাও বড় নিরুজ্বল কিছুটা অনচ্ছ

বড় জোর তম্বুরা বড় জোর ঠেকা
এর বেশী প্রকৃতিও জানে অরণ্য থেকে
থেকে শহরে চারিয়ে যাওয়ার ঝানুতর মেমে
বাকী থাকে গিমা শাক বাকী থাকে ক্যাসারোলে

গতরাতরুটি আর কিছুটা নির্লিপ্তি যা
সকালেরই ঠিক সকালেই বেড়ে চেড়ে ওঠা

বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
সাদা ভাতে খয়রা মাছের ঝোলে ডুব
দিলে একটা অনিচ্ছায় মাছেরই মতন
সাঁতারে বেড়ালে  ঘুলঘুলি ফাঁক করে ফুটল কুসুম
কুসুম ডিম আর বেড়ালের অনিশ্চয়টুকু

যেটুকু পার্থিব আর মিস্টার পারেখ মিসেস পারেখ
আর বেহালার ছড়ে রজনের বাস
থেকে  দাম্পত্যদানি থেকে
সলিউশানের দিকে  বিভাজন রেখে

কিছুটা শান্তি তবে রেখেছিলে রিজার্ভ
ফরেস্টে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছিলে বনের
নীবার ধান আর অঘ্রাণের ডাল থেকে
উড়াল দিচ্ছে  চৈত্রের মত পেটিকোট


বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
অথচ বাগানের কান ঘেষে  উড়ে গেল বেলুন
মেডিক্লেম ছুঁড়ে দিয়ে গেল
কিছুটা হেলান ছুঁড়ে দিল
সটান চেয়ারে

মোমের মানুষ আর তার
মোমের আঙুল  ঘষা কাচ আর 
এক অস্পষ্ট চন্দ্রোদয় ৭টা ২২শে
তরঙ্গ এল            কিছুটাতো ধরা পড়ে

মেলাতে মেলানোতে   রেডিও স্টেশন
থেকে কুকুর ডাকছে, হাড্ডি ডাকছে
এমন কী কামড় থেকেও

একটা প্রভূত ডাক ওঁত পেতে ছিল
আউটডেটেড স্তনে  আর একটা
অথচ নিয়ে  আশা ছিল  সংবেদ ছিল
তবু করলে না ভালো

বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
একটা এলিট কাঠামোয় ঢুকে গেলে
ঘুরে ফিরে অপারগ হলে আর কাঁঠাল খেলে না
আর চেনা রাত্তিরে মাধবীবিতানে ককটেল পার্টিতে

গানও গাইলে-- আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
অ্যান্ড বিকজ মলয় ওয়াজ হাংরি   বনফুল থেকে প্রাদেশিক
শুয়োর দাবনা বাড়িয়ে দিল হ্যাম ও বেকন খেনু
সসেজ সালামি খেনু   অল্প একটু মিন্ট সেজ অরিগ্যানো সিজনিং

সহ  আর কাঁঠাল হল না এমন কী সঘন জ্যৈষ্ঠে
পোঁদপচা ভাপে  গুরুগুরু গগনে গরজে
আমার তো হল না রে ভালো 

বসন্তপর্যায় গেল আমাকে করলে না তুমি ভালো
ভালো করে দিলে
অথচ কে
তবু কে

কিন্তু পরন্ত ইত্যাদি প্রভৃতি
সবাই কে ভালো করে দিলে
এমন কী পর্দার রড থেকে
ঝুলে পড়া ফাঁস তাকেও তো সম্প্রীতি

দিলে কিছুটা কারুণ্যে রক্ত কে
চোয়াল বাড়িয়ে দিলে
বিশ্ব ফিশ্ব থেকে মাধবীলতার দল
শিরদাঁড়া বরাবর ওঠে

গ্রন্থি বা সাপোর্ট ছাড়াই  
কাঁটাহীন লতানো বাগানে
আমার কবিতাকে অব্যবহার দিয়ে
প্রচূর দাগিয়ে দিলে

সাদা পাতা নুনে ভরে দিলে

No comments:

Post a Comment