Friday, July 18, 2014

ফুটবল প্লাস / নীলাব্জ চক্রবর্তী



যেকোনো থিমের শুরুয়াত
একটা মানচিত্রের কথা নিয়ে আসে
আর মানচিত্র নিয়ে কথা শুরু হলেই
তখন একটা কফিমগের কথা এসে যায়
রুটির যেদিকে আলো পড়ছে না
অথচ প্রতিপাদ্যের সবটাই
গোল হয়ে
ফিরে আসছে
খুব সরল একটা বক্ররেখা বরাবর
তার গাণিতিক সম্ভাবনাগুলো নিয়ে...



* # *






স্মৃতির দুপাশে
এইভাবেই নতুন হাইওয়ে
ছুটে
যাওয়ার কথা
প্লট আর সাবপ্লটের ভেতর
ঝিরঝির করতে থাকা
অস্পষ্ট কর্নার ফ্ল্যাগ
এখানে একটা বর্ষাকাল প্রোমোট করা হবে
আর আপনি লে-আউট শব্দটার বাংলা
খুঁজে পাচ্ছেন না...



* # *




কোথাও একটা ডিকোডার
শীত নামের উপমার ভেতর
জড়িয়ে
ঘুম
চৌকো খোপ খোপ কাটা
একঘর সরে বসছে
কালো মার্বেলের পরিচিত ছায়া

বালিশের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে
বিজ্ঞাপনবিরতির তিনটে রঙ



* # *






তারপর দরজা ঠেলতেই
ব্লাশ করছে
একটা গোলাকার টেবিল
বাক্সের ভেতর
বারবার ওভারল্যাপ করছে
দুটো সাদাকালো দিন

তাদের নাভি             তাদের যৌনতা           তাদের খিদে

আর একটা ধোঁয়া উঠতে থাকা ফুটবল
ভাতের থালায়
পাম্প করছে
আর ফুরিয়ে যাচ্ছে সেই রূপক



* # *






আমাদের সবার একটা গ্যালারি ছিলো
আর একটা গ্যালারির ছিলাম আমরা
আর একটা মেহিকান ওয়েভ
অথচ তরঙ্গদৈর্ঘ্য মিলছে না
আর হাতকামান          আর টিয়ার গ্যাস
উর্দি আর জার্সির মধ্যে একটা ফারাক বুনছে
একটা মিহি সিনট্যাক্স
ড্রিবল করছে
অথচ
একটাই শুশুকের ভারী ছায়ার তলায়
বিনির্মিত রিপিট টেলিকাস্ট...



* # *






অথচ ঘুমের কবিতায়
স্বপ্ন নিয়ে একটাও পঙক্তি আসেনি
শেষ দৃশ্যে
হ্যালো নামের একটা রুমাল
মনে পড়ছে না
অর্ধেক জেগে থাকার উপমায়
শুধু ছায়াবদলের কথা এলো একবার
শুধু কাগজকলমের কথায়
দীর্ঘ হয়ে যাওয়া প্রাচীন রাস্তার কথা...




Thursday, January 16, 2014

মর্চে হাতে একটা লেখা



শীত লাগে, জাড়া লাগে, ঘোরকালো আকাশী প্রদেশে এবছর বৃষ্টি হয় ভারী
কুয়াশাও পর্যুদস্ত করে
ভাবি যদি কুড়িয়ে পেতাম উৎপল বাবু’র “বসন্ত দিনের চটি”
মরিয়ম, এ আকাঁড়া রিলিপে লিখতে পারতুম “আবার কোলাপুরী সিরিজ”

নেহাত সময় নেই, তাই গান নেই
উপমার গতি নিয়ে খুব সন্দিহান
ব্যায়লাবাদক         রিপু করে কদ্দিন চলবে
প্রভাতে প্রভাতে  কাঁচা হলুদ ও মাউথওয়াশ
মাইকামাইন পার হয়ে আসা হাসি – ঝানু ও অপ্রাঞ্জল
--
কাকে ছুঁয়ে আছ
তোমাকে ছুঁয়েছে তার প্রবেশপ্রণালী
ছত্রাকে জিন দিয়ে বসে আছে ক্ষয়
দেখ তার জানুদেশ লাল

এই রাত্রি এই তার নিয়মের খোল
পরতে পরতে আমাদের জমে থাকা
বিস্ময় নিয়ে কোথাও আর কেউ কথা বলবে না
তোমারও কমিক লাগে তোমারও রিলিফ লাগে
প্রয়োজন নিয়ে কথা – ব্যাথা ঘন লাগে
বারান্দার থেকে ঘুরে এলে 
ঘাড় গুঁজে বসে থাকলে
আলগা করে দিলে অনস্তিত্বকে
আর ছুঁয়ে থাকলে না নিজের আঙ্গুল
তবে রাত ...
--
কেন না রাত
কেন কীনা ভেজা রিক্সায়
মুছে ফেলা তেঁতুলগাছের ছায়া
ঘুম ফুঁড়ে বেগে ছত্রাখান
দুলদুলের সাদামাঠা ঘোড়া
প্রশ্ন কমন পড়ে অথচ উত্তর
কেমন প্রশ্ন এড়িয়ে   ভেসে যায়
ভেসে ভেসে যায়
--
(অন্তরা)

রাত লেগে তোর চোখের বালিতে
রাত লেগে তোর সোহাগ নালিতে
আমার গন্ধ ফুরিয়ে আসছে
তুঁতবনে

রাত লেগে তোর হাড়ের কালিতে
রাত লেগে তোর ভিতরখালিতে
আমার জন্ম হারিয়ে যাচ্ছে
প্রাণপণে
--
ইয়ে রাত খুশনসীব হ্যায়

             নষ্ট হয়ে যাই প্রভু
হেভেনে হেভেনে
চিকচাক চিকচাক ম্যারাকাস বাজে
কোমরমন্থন
ক্ষীন ও অপসৃয়মান গাঁড়ের কলিজা প্রভু
(দোষ নিও না)
ক্রাইসিস মাত্রেই পোস্টমডার্ণ   বোধ হয়
--
তবে বাস্তবায়িত হও
হে তাৎপর্যহীন শৌখিন বায়ু
কিছু দয়া ফেলে যাও   গুড়তামাকের ঝুলি
বাতাসতাড়িত স্পৃহা
ইগো ও করুণা
কনফ্লিক্টজনিত  চালু চরাচর
ছন্দে লেখার মত
কিছু কিছু শৌখিন স্পৃহা
--
হে বিপুল সদ্ভাবনা   নিরন্তর ক্রুর কলকাঠি
নিকষ মর্মে বেঁধা  স্থুল ফটকিরি
দ্যাখো ঐ রৌদ্রে গরাদে    উবু মালিকানা
বিশেষিত কনুই সমেত হাত, হাতঘড়ি
--
তবে অপচয় বুঝি, বুঝি ধারামুক্ত ধারাবিবরণী
আর্তি – নাজুক অর্থে  ধাতুমনস্কতা
চিরুণিতল্লাশে ফাঁকতালে ধরা পড়া
মোমের ইশকুল
এক উৎকীর্ণ ভাবগাছ থেকে অপার স্থলের
 দিকে কাপাস যাত্রা
--
ইয়ে রাত ভিগি ভিগি

ফলে কার্পন্য ভুলি
কল্যানমস্তু
গৃহীর গোয়ালে বোলেরো
গাভীন হোক      ভরে যাক পেট্রোপয়োধি
--
অদম্য মাংস পোড়ে মেচেতার মর্মে
সংহত মাংসে কমনীয় কূটমন্ত্রণা
ভুল হয়,    ভালো হয় সার্বজনীন
বিপথিক জাঁতাকলে নিশ্ছিদ্র ঘুম হয়
ঘুম থেকে উঠে ভাবি--

যাকে জন্ম বলি সেও এক পথ মাত্র
অপূর্ণতার কাছে বন্ধক রাখা এক মূক তাঁতকল
--


কিছুটা অনুসৃজন যাকে বলে সেরকম
মানে রাত,
মানে দেখা যাচ্ছে না কিছুই – গ্যাসবাতি নেই এই তল্লাটে
তবু
ঘোড়াবাদাম গাছ কাঁটাফল বিছিয়ে রেখেছে
এ আমার নাক ঠিক বোঝে

রাত কে রাত পা বাঁচিয়ে চলি

ওপারের বাগানে আপেলফুলের দিন জেগে ওঠে

পড়ন্ত ভিস্যুয়াল-এ ঢুঁ মেরে আসা
লোহিত ফড়িং
--
যেন কেজো কথা
যেন শনাক্তকরণ এই মাঝরাতে
বিবৃত হয়ে যাও তাও ভ্যালা
বিবৃতি মিবৃতি দিতে যেও না মাইরি
অবান্তরতার সপক্ষে ঘাই মারা মানে মামু
অনন্তজোখিম
সব পাখি ঘরে ফেরে
যে পাখি ফেরে না – সে শালার চোদ্দগুষ্টি পক্ষীই নয়
কহতব্য নয়

প্রভু রূপচাঁদ কি কবহুঁ ঘরে ফিরিয়াছিলেন ?

অ্যাট লিস্ট রাতে ?
--
ফলে মিস্টির শো-কেসে
ঝুলিয়ে রাখছি ভেনেশিয় খড়খড়ি
মাছি তো গন্ধে আসে
মানুষ বিজ্ঞাপনে
যাগগে ভালোই হল এগদিকে
অক্ষরবৃত্ত ও ছন্দহীন কবিতায়
কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া হতে পারে
মিস্টার সচদেবের পার্টিতে
ডঃ নরেশ কুন্ডু বলছিলেন
কালও ফ্রয়েড সায়েব বিপিনবিহারী হলে ...

যাকে বলে ধর্মের কল
বাতাসেও নড়ে      ভ্যাকুয়ামে আরো বেশী নড়ে

(বাকী সব কল একানড়ে; ঘেঁটে গেল জানি,  তবু ঠিক, জানেনই তো, সামলাতে পারলুম না)

--

তো যা বলছি, যে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখতে গিয়ে বুঝলাম, শালা সব ভোঁ ভাঁ – কেউ কোত্থাও নেই । একটা ব্যবসা ব্যবসা গন্ধ ঘুরছিলো ঠিকই কিন্তু সে যেন পেন্সিলের পদপ্রান্তে কালোছোপ ঘেউ । হেই মা জিন্ময়ী ইকি গ্যাঁড়া, ইকি ঘটকর্পূর কেস !

অথচ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম এক ঘনগাছ সমস্ত ডগ যার শীতে পুড়ে কালো—যেন এক একটি পাখি সবুজ ফাটিয়ে এসে স্থানু বসে আছে– আর এক স্প্যারো হক (শিকরে) বার বার ঝাঁপিয়ে পড়ছে, শেষ মুহুর্তে নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়ে ডানা মেলে জরীপ করছে, ফের তার ঝাঁপিয়ে পড়া । ওফ তার গাঢ় অবিশ্বাস !

--
 

Monday, September 23, 2013

আরও একটি ব্যক্তিগত কবিতা / নীলাব্জ চক্রবর্তী

ওই ২৪ টা ফ্রেম কখনোই পরপর এলো না
আসলে আমরা জানতামই না
ক্যামেরা           কোথায় বসবে
আয়না            কোথায় বসবে না
ত্রিমাত্রিক কাগজে লিখতে বসার এই এক অসুবিধে
এক একটা শব্দ
তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা
সারফেস                   ছেড়ে
অনেক            ভেতরে ঢুকে যায়
তখনো বৈভবী নামে কাউকে চিনতাম না
আর রামধনুর সমীকরণ ঠিক কী হবে
কাঠের দরজার ওপাশে
অন্যরকম আলো
আর গুঁড়ো গুঁড়ো অক্ষর
যার সবটাই তেতো
অথচ মুখোশ কারখানার কথা
ঢের আগেই লেখা হয়ে গেছিলো
এখন মৌলিক বলতে
ফেজ ডিফারেন্সটুকুই পড়ে আছে
বন্ধুতালিকা লুকিয়ে রাখার কথা
প্রথম কার মাথায় এসেছিলো
তখন আর আমাদের
মনে থাকবে না
স্যুটকেসের কোটরের ভেতর
যেটা নড়ছে চড়ছে তার নাম স্মৃতি
আর অ্যাতোদিনে আপনারাও ভুলে গ্যাছেন
সেই আওয়াজটার নাম ফ্যান্টম অব লিবার্টি ছিলো কি না...

Friday, August 23, 2013

সম্পর্ক / নীলাব্জ চক্রবর্তী



সম্পর্কের ভেতর দিয়ে একটা তেকোনা আয়না
পারাপার করছে               তার সেপিয়ায়
কোনাকুনি
এগিয়ে আসছে
                পিছিয়ে যাচ্ছে
প্রাচীন মধ্যমাসূত্র
বরং সমনৈকট্যের কথায়
দূরত্ব                   বজায় রাখুন
বরং ধাতব বিরতির কথায়
শনাক্ত করা হোক
আঙুল রাখার রাস্তা
কতটা অযৌন হয়ে যাচ্ছে সেই ম্যাজিক
এইভাবে
আমার অনার্যনীল মিঠেকড়া কবিতার লাইনগুলোর
খয়েরী ছায়ায়
আপাতত স্থির হয়ে থাকা টোটেমের ফুঁ
ক্যামোন উদ্বায়ী নুনঘরের ভেতর
ভুলে যাচ্ছে রং ফেলে আসার নিনজা টেকনিক...

Monday, May 6, 2013

স্মৃতি

সোমনাথ সেন


খুব সামান্য ছবিও মাঝে মাঝে আপত্তিকর মনে হয়
এতটুকুই আমাদের ভারসাম্য
বাকী বিশ্বাসের দিকে স্মৃতি গভীরতা পায়

গোলাকার অবস্থা শুধু স্তনেরই ধারণা দেয় না, নিতম্বেরও দেয়
নরম আলোর দিকে সামান্য রাস্তা
আর দিকে দিকে পুরুষালী বুক স্ফীত হয়ে এলে
                                        প্রকট হিজড়ের গান শুরু হয়
এইটুকু তরঙ্গ নিয়ে ছুটে চলে ট্রেন
আর যে সব কিশোরী এইমাত্র উন্মত্ত হল – বুকে ও নিতম্বে
সামান্য জ্যা টেনে
আমরা মেপে নিচ্ছি সেইসব অন্তর্বাসের পরিমাপ

এই মুহূর্তে মানুষও তার প্রতিচ্ছবি দ্যাখে
এই আমাদের সীমারেখা, এই আমাদের সীমাবদ্ধতা -
বাকী থিয়োরেম থেকে ভ্রূণের মুখোশ পর্যন্ত
                 ধীরে ধীরে আবছা হতে থাকে কেলাসিত তরল
                                                                          শব্দ হীন
যদিও এইসব প্রবণতা শুধুমাত্র স্মৃতি সাপেক্ষ নয়
কখনো কখনো এক লুকিয়ে থাকা সামঞ্জস্য, এক রুমালের
গন্ধ নিয়ে যৌন হতে থাকে

আমাদের প্রস্তাবিত মুখ-বদল ঘটে যায়
ছড়িয়ে থাকা মানুষের যত মানচিত্র থাকে, যত ভিড়ে ঠাসা রাস্তাঘাট
প্রতিটি স্মৃতির ভেতর
                              গভীর হতে থাকে নলকূপ
সামান্য আকর মিশে গেলে জলও রক্তাভ হয়