তিব্বতীর লেখা মজনু কা টিলা
মজনু কা টিলা উত্তর দিল্লির তিব্বতী জনপদ। চিন তিব্বত দখল করলে হাজারো শরণার্থী এসে আশ্রয় নেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। মজনু কা টিলা সে রকমই একটি এলাকা। আমরা যদি সময়রেখা খেয়াল রাখি তাহলে বুঝবো এই এলাকার বর্তমান বাসিন্দারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের তিব্বতী।
১
কাচে কাটা পা দিয়ে চলাচল, যেদিকে রেখেছি শীর্ষ তীক্ষ্ণ মেধা ও তার যাবতীয়
ক্ষতচেতনার গায়ে গুমরে ওঠা নতুন অবস্থান, সেখানেই ফিরে আসি
কতদিন বলো পতাকা রাখবো সন্তানের শরীরে কামনার শরীরে রাতে
পর্দা লোপাট করা হাওয়া দেয় এই অক্টোবর এই ফিসফিস নীল
এই উড়োজাহাজের ছায়াহীনতা একে কিসে অনুবাদ করবো পাথর
বা টিলার ভাষা পাশে বসেছে কন্যা তার অক্ষর পিছলোন নিরবতা
২
সাদা শরীরের দিকে দেখা ভিজে গন্ধ শোঁকার আগে মসৃণতা এই কুমারী বাহু এই গমে
ঢাকা নাভিমূল আমি পাথরে লিখি মরুভূমির পাথর আকাশপাথর ও তার আঁচড় না
লাগাতে পারাকে আমি নিরীক্ষা বলি এই গূঢ় মাংসল ব্লেডের সামনে কেন বারবার নামিয়ে রেখছি
নখর ও অন্যান্য উগ্রতা কেন চিরে দিতে পারিনি অনন্য চামড়া এই দেশটাও কি আমাদের?
৩
এখন আর কান্না নেই, ঈষৎ বয়স্কদের মুখের পাশে ফানুস বা নতুন বছর কোনও
আলাদা দাগ ফেলেনি এতগুলো বছর এত কিউরিও এত দরকষা
এই সুদের জটিলভাগে মগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় ব্লেড বা ঘাসের শরীরে
পরস্পরের মগ্নতায় লক্ষ্য করি এক বিস্ময়কর অক্ষরহীনতা
নীল ছোপ জড়িয়ে রয়েছে ভয় নতুন মাটি, আদতে কি ভয় আছে নাকি
নিজের পাথুরে জমি এর চেয়ে বেশি ক্ষোভ ছিল? কেন এসেছিলে
তবে এই না-ভাষার খল উঠোনে এই কম্পাস এইসব মাংসল সকালে?
৪
দামিনী উইলসন আসলে একটা চোরাগোপ্তা ব্লেড
লিরিকের শরীরে
বসা দীর্ঘ অভ্যেসের পাশে যে সকাল মসৃণতা
আমি তার গায়ে লিখি এই প্রস্তরগ্রহন
এইভাবে থেঁতলে যাওয়া মাংসপিণ্ডে রাখি সাদা
খুব অনন্য রঙ বুঝি এই খুব ফাঁকা দুই জীবনে
বলি তুমিও ধারালো বাণিজ্য আর
হিংস্র আসলে একটা উষ্ণতর দ্বীপ
৫
নুনে মাখামাখি হই কাঙ্ক্ষিত গহ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করি লালা
আমার মৃদুতা, আমার নিস্তব্ধ হাত আর পাথর নয়, শুষ্কতা আসলে
একটা ধাক্কা আমি নেমে যাই, নরম ফাটলে জিভ
কৃষ্ণচূড়া ঝরে থাকা অ্যাসফল্টে ভারি চাকার দাগ এই মুহূর্ত
আঁচড় এই স্থির হওয়ার আগে একবার কেঁপে ওঠা অস্ফুট
স্বরের পাশে লেহন ও পেশির দাগ বালি
সাদা না শিথিল আরেকটা রাত জল থেকে ঢেউকে
আলাদা করে দেওয়া এক ভাষার ছল
৬
এভাবেই কথা, বুকের শরীরে বালি
হাওয়া কেটে দেয় দীর্ঘ সিঁথি এলোমেলো
ওয়াটারমার্ক আরেকটু গেলেই বালি ভিজে উঠবে
অজান্তেই প্রশ্ন করা রেখে স্থির যতিচিহ্নের দিকে চাই
বলি কতটা লেখে ডায়রির পাতায়
বাকিটাতো প্রশ্ন থাকে দামিনী উইলসনের পাশে
দেহ একটা গাঢ় জেগে থাকা
মাংস তো স্থির কোনও আবিষ্কার নয়
দাঁতে দাঁত যেখানে ভাষার মানে ছিঁড়ে আনা রক্তজবা
আরেকটু পরেই কালো দাগ গহিন প্রবেশপথে, অভিজ্ঞতার
গোঙানির পাশাপাশি নোনতা দুটো নরম পাথর,
ভোরের গায়ে গজিয়ে উঠছে
নামাজ সুরেলা গাছ মানে একঝাঁক পোষা পায়রা
ছদ্ম উড়ে ফিরে আসে বিশ্বস্ত ছাদের পাশে
শুয়ে থাকে দামিনীর হিংস্র লতিয়ে ওঠা আমাদের
অনুর্বর শরীরে
দিল্লি সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ২০১০