Thursday, February 23, 2012

derrida on deconstruction

sabya-r saampratik kabitaa niye aamaader aalochanaar pariprexite o Sanchita-r prashner uttare aamaar mane halo, ei videoTaa sakaler janya share karaa Jay. sabaai dekhuk. ki mane hay se niye aalochanaa karaa Jaay ekhaane...

Tuesday, February 21, 2012

khub beshi post kore felchhi ki ?

আমাদের ভাবনারা প্রকাশ্যেই
নিজেদের গুটিয়ে ফেলছে অবয়ব থেকে
একটা গাঢ় সন্দেহের মধ্যে
ঢুকে যাচ্ছে
যে সন্দেহের মধ্যে নির্দেশ নেই
দিক নেই
পরিমাপযোগ্য কোন নিস্তব্ধতা নেই

শুধু এক বোবা কুকুরের মাটি খুঁড়ে যাওয়া
একটা হারিয়ে যাওয়া পায়ের হাড়ের
অনস্তিত্বকে প্রমাণ করার জন্য

--
স্বভাবতই আমাদের স্বাস্থ্যকামনাগুলো
ঘন ও প্রাচুর্যময়
এইসব দিনে
যন্ত্রণার কথা মনে পড়ে
যেভাবে ট্রেনে কাটা পড়া
পায়ের পাতাও চুলকায়

শেকলের স্মৃতির মধ্যে
যতই স্বচ্ছ হোক কুকুরের ঘাড়
সন্দেহ বলে কোথাও আর কিচ্ছু থাকে না ।
--
ভাবো পূর্ণতার কথা
যে কেবলই অস্তিত্বের মধ্যে হারিয়ে যেতে চায়
সমস্ত ওজন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে
আর ফিরে আসে
সমস্ত পূর্ণতা সমেত
তার শুন্যতার কথা ভাবো

ভাবো তার বিশ্বাসহীনতার কথা
সন্দেহরহিত অবিশ্বাস্যতার কথা
--
তবে স্মৃতিও একটা অস্বীকার
বা অস্বীকারের মহড়া
আমাদের ছায়ার ভেতর থেকে
ফিরে আসা
শেকলের আভাসকে
যে বদলে নেয়

বকলসের প্রান্ত ও অবস্থানকে
ঘুরিয়ে দিয়ে
ধীরে ধীরে আপাতপূর্ণতায় ঢুকে যায়

ঘাড়ের ওপরের ভার
কব্জিতে নেমে আসে
--

Sunday, February 19, 2012

ফালতু চিন্তা (আরও কিছু)

কিছুক্ষণ মৃত্যু এসে বসে রয়েছে খাটের পাশে ইজিচেয়ারে
তার এক তোলা পায়ে আঙুরলতা, হাজার কাঁটার বনান্তরী
কিছুক্ষণ অন্তত একদিন মরে যাবার হয়তো আগে
তাকে দেখা যায়, দেখতে পায় কেউ অনেকে


একটা অনুষঙ্গ আমাদের প্রাপ্য
শেষমেষ যার নাম হয়তো নির্জনতা
হয়তো জরুরী অবস্থা
হয়তো
শৈশবের বাড়ি, সারাজীবনের বাড়ি
বসার ঘরের ফাটল
ছাই ভেদ করে কইমাছের কানকো
পরিচিত বিপন্নতাগুলো
আলোকিত খানিকটা অবস্থা
যা যন্ত্রণার, টনটনে প্রতিক্রিয়াময়
এরপরও অন্ধকার থাকে
শব্দের আসল স্বরূপগুলি
স্বরূপের পালকেরা
পড়ে থাকে নির্মম মাঠে


একটা স্বান্তনা আমাদের প্রাপ্য হয়ে ওঠে
ভুলে যাওয়ার মত অন্তর
মৃত্যুকে একটা অবস্থান ভেবে নেবার মত ভুল
--
একটা ভুল চিনিয়ে দিচ্ছে
পরবর্তী ভুলকে
তবে, ভুলও একটি ইন্দ্রিয়
যে হাসির মধ্যে দিয়ে
আক্ষেপের মধ্যে দিয়ে
শৃংখলাকে বুঝে নিতে চায়
দৃশ্যময় ও সাদৃশ্যময়
পরিচিতিগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়
ছ্যাঁকার সম্ভাবনাকে অগ্রাহ্য করে
--
ভুলও কী একধরণের বিশ্বাস তবে
বা বিশ্বাসও কী একধরণের ভুল
যা আছে তাই আমরা আছি
বা যা আছে তাই আমরা নেই

আমাদের নির্জনতাগুলো
চেয়ে থাকে শাদা ও বন্ধুর এক পৃথিবীর দিকে
যার কোন আবরণ নেই
আবরণের লেশমাত্র নেই
--
ঘুম ভেঙ্গে গেলে লক্ষ্য করি
শাদা এপ্রন পরে
আমাদের পরীক্ষাগুলো
আমাদের নেড়ে চেড়ে দেখছে
আমাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলছে
অস্ফুট গলায়
সেসব অস্পষ্টতার মধ্যে
সৌজন্য থাকে-- আমাদের পরীক্ষার দিনে
যে সৌজন্য কোথাও ছিল না

হাত গুটিয়ে ফেলার মত
ভয় পাওয়ার মত
এক টুকরো
শেকলও আর পড়ে থাকে না ।
--
--
আর যন্ত্রণার কথা মনে পড়ে
দুঃখ হয়
পুরোন যন্ত্রণাকে ফিরিয়ে আনা যায় না
অনুভূত করে নেওয়ার মত অবশিষ্ট কিছু নেই
নতুন একটা যন্ত্রণার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে
অপেক্ষা করি
সংস্থাপনের জন্য
ক্রিয়াশীল ছায়াগুলো সুলভ্য হয়
চোখের নীচে
খেলা করে
--
ধরে নেওয়া ভাল
ব্যবস্থা একটি তরল অবস্থা মাত্র
বিশ্বাসের জমাটতা থেকে যে নিজেকে ছাড়িয়ে আনে
তার পর নিশ্চেষ্ট বসে থাকে
অ্যাকোয়ারিয়ামের দিকে মুখ করে
প্রতীত হয়ে ওঠে ঝিঁঝিডাক
যা সাকুল্য
বিশ্বাস ও অবিশ্বাস দুয়েরই
--
এরপর অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে
আমাদের বেড়ে ওঠা
পুরষ্কার ও শাস্তির দিকগুলো চিনে ফেলা
না-না স্ট্রেসর-এর পরিপ্রেক্ষিতে
আয়ত্ত করা বূহ্যভেদের কৌশল
সন্তরণক্ষমতা

আমাদের দৃষ্টির অগোচরে
আমাদের সমস্যারা
দাঁড়িয়ে থাকে শাদা এপ্রনে
নোটবুকে টুকে নেয়
আমাদের যতটুকু
পরিমাপযোগ্য
এখনো সর্বনাম
এক
Cogito, ergo sum: Rene Decartes
ওরা সমার্থক বলে পরস্পর। বিবমিষা খাদ হয়ে মিশে
আছে গোলামদের গুহায়। এ 'গ'কারে রয়েছে, গৃহকার্যের
ব্যাপৃ্ত প্রকরণ।
যখন তখন।
তাই যুযুধান অমনিবাসে মন
কম হয় আজকাল। ভিজে পাখনা, রঙিন মাছ।
আমি কিন্তু স্বাদুতার কথা বলছি না।

রক্তে, মানুষের রক্তে ভাল সার হয়।
বড় বড় সাজানো ড্রাম।নাইট্রিক, সালফিউরিক,
ঢাকাগুলি স্টিলের।ঠাণ্ডায় ঠাণ্ডা, গরমে গরম।

পশমের পোশাকে যেমন জড়িয়ে আছে ছাড়ানো চামড়া,
(ট্যানারীর পাশ দিয়ে যেতে গেলে মুখে রুমাল দেয় ঐ মোজা পায়েরা। প্যারিস, প্যারিস...
সুরোভিত ঘ্রাণ, দাম আছে বেশ।)
সেরকম আলোশব্দগুলি জ্বলে জলে, নড়ে, নড়ে ওঠে...
দেখি ওরা স্যাঁতস্যাঁতে ভিজে কিরকম।

টুপ টুপ টুপ টুপ
টপ টপ টপ টপ
টোপ টোপ টোপ টোপ

এক চেতনে বিভেদ
দুই চেতনে আফিং
তিন চেতনে পড়ন্ত ...

রোদ, মানুষের, অলীক মানুষের রোদ
প্রতিবিশ্বাসের উপপারমাণবিক
ব্যক্তিসত্তা্র কোয়াণ্টাম?
নিউট্রিনো, কী বল?

সৌজন্যে ন্যাতা লাগে শুনেছি।ওরা বলে 'মুখ মোছ'।আমি
ত' হাত ধুয়ে বসে আছি,
মনে হয়।

Saturday, February 18, 2012

কাটিয়ে ওঠার খসড়া ১

"অফুরান হলো সদ্য কেনা ছুরি। একদিন আর এসব থাকবেনা। গতকাল অনেকগুলো বাতি তৈরি হয়েছে। অনেক ফিউজ জ্বলে গেছে। আজকে আমি সময় মতো দাড়ি কামালাম। গত সপ্তায় তোয়লা ধুয়ে দিয়েছি। তোয়লা এক পাশে তোয়লা অন্যপাশে। আমি ঠিক করলাম মেঝে মুছবো। বইগুলো জায়গা মতো রেখে একটা গান বাজাবো। যেমন বলো তেমন জড়ে বিশ্বাস আসে না। তোমার কথা চিন্তা করে দেখি – আরো ওইসবে হয়েছে ওসব ? একটা দেয়াল। একটা বন্ধনি। আমার কল্পনা আর কারো হওয়া অসম্ভব। তার পরেও ব্যাপারটা এত স্বাভাবিক ভাবে হতে পারে যে খেয়াল করতে ভুলে যাই। পলেস্তারা জুড়ে ফার্নের মতো গজিয়েছে আমার মনোবল। ভাবছে প্রাণ একটা অবস্থা মাত্র। আরো অনেক সমস্যাই গজফিতা হয়। কাটাছেড়া জটিল মশলার তাক। বা একেকটা অবস্থা হতে পারে এক একটা ফিউজ। ঠোঙ্গা উল্টাচ্ছে আর সোজা করছে, উল্টাচ্ছে আর সোজা করছে ...হাতটি খুঁজতে যেও না। সেতু বুঝে নিও নিজের মতোন। প্রচুর বাতি তৈরি হচ্ছে। যেখানে অন্তিমতা প্রয়োজনহীন, বা সবকিছুই অন্তিম। নানা অবস্থা জুড়ে একটা একটা বিচ্ছিন্নতা। তুমি টের পাবা। কিন্তু যে মুহূর্তে কল্পনা করো, খুব মায়া হবে নিজের জন্য।”
হলুদ দাগ পড়া ফলটি ঘোৎ ঘোৎ করে কাটতে থাকে ছুরি দিয়ে। শক্ত চোচা। ভিতরে টসটসে দানা। বাঁকিয়ে খুলতে থাকে উনি। পর্দাঘেরা বিন্দু বিন্দু কামনা। জবরদস্তি একটার সাথে আরেকটা জুড়ে তব্ধ মেরে ছিল! মুঠিভরে সেই দানা মিশ্রকের ভিতর ঢালে। ব্লেড জুড়ে তৈরি হয় গোলাপি আর্দ্রতা। একটা বাচ্চা ছেলেকে গিলিয়ে দেয়া হলো।

অতঃপর কোষ বিভাজন। বেদানার রস স্ফটিক হতে থাকে। খারাপ। দুর্বলতা। কৌতুহল। শুভ। এইটা শোভন। বি আ গুড বয়। একেকটা পুনরায় থোকা বাঁধতে থাকে। উপরে গজিয়ে ওঠে খোসা। যেই খোসার নাম ভয়। আর্যদের গল্প সেই তুলনায় রূপকথা। দ্বাদশ বর্ষব্যাপী। চিত্রাঙ্গদা শুনলো একদিন। ভয়ে ভয়ে মুখস্ত করলো মাগরিবের নিয়ত। অন্ধকারে মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য। আগুন! আগুন! খুব ভয়ে ডালিমের চামড়া পুরু করতে করতে একদিন লোকটা নিজেকে ছুরির দোকানে আবিষ্কার করে। আবিষ্কার করে সে একটা রুপালি ছুরি কিনে দোকান থেকে বেরিয়ে এসেছে বাসস্টপে। একটা পশ্চিমা কিচেন চীনা ডালিমের মুখোমুখি। মানে দাঁড়িয়ে। মানে মৃদু শব্দে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে দাঁড়িয়ে। হাত ভিজে মানে উঠছে। লিপ্ত মানে লাগছে। ডালিম ভর্তা হয় বারকোড থাকে। পাশের ফ্ল্যাটে এত জোরে গান বাজায়

অনেক চাহিদা বুজিয়ে বুজিয়ে একটা কামনার দিকে যাও
ফিরে আসো
পাশের ফ্ল্যাটে গান বাজাচ্ছে ওরা
ভাবনা বস্তু। বস্তুই বিশ্বাস। বাদাবাকি ঠান্ডা লেগে যাবার ভয়
অর্থাৎ বাক্যবিনিময়। আমি তোমার সময় নষ্ট করতেই থাকবো। তোমার ভিতর যে কোনো দানব নাই তাও না। কিন্তু একটা আকাশও আছে। আমি ভাবলাম আকাশ থাকলে কাশফুল আর ইঁদুর আছে। কবিরের করিডোর। বেরিয়ে এসে দেখো। শহরটা কেমন মলিন আর পর্যুদস্ত। জবুথবু গাছ, রাস্তা। পুরানো বাড়িগুলি একটার পর একটা বদল করে সাড়ে তিন বছর ধরে থেকেছে কত বিচিত্র মানুষের সাক্ষাত।
রান্নাঘরে বাথরুমে ফ্রিজে ডিমপোচে। কারো সাথে আর দেখা হবে না যদিও। কবির ঘুরে ঘুরে শহর দেখে। চেনা, আবার চেনা নয়। একেকটা বাড়ি তার একেকটা সময়ের স্মৃতি নিয়ে অন্য ভাড়াটিয়ার।
কবির জানালা দিয়ে ভেতরে দেখার চেষ্টা করে।
জোড়াতালি সমেত। আগেও বেসমেন্ট সিল করা ছিল। রাত হলে মেঝের নিচ থেকে ইঁদুর বের হতো। গায়ে উঠে আসতো। কামড়াতো না। লাফিয়ে লাফিয়ে পর্দা বাইতো। আলো জ্বালালে ভয় পেতো। মাঝে মাঝে ঝুম বৃষ্টি হতো। সামনে চিকন এভিন্যু। হেঁটে গেলে রেলক্রসিং। মালগাড়ির শব্দ হেঁটে গেলে মাঝে মাঝে আকাশ পরিষ্কার থাকে। উল্টা পাশের বাড়িতে একজোড়া চীনা ছেলেমেয়ে। প্রায়ই ওদের গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। শোবার ঘরে পর্দা ছিল না। হয়তো কবিরের উপস্থিতি বিশেষ বিশেষ সময় ভাল লাগতো ওদের।

ভাল লাগতো স্তব্ধতার।
শুধু এক চাক পচা মাংসে পানি পড়ছে টিপ টিপ করে
যেন সব শব্দই খুলে পড়ার শব্দ। যেন গাছগুলি রূপার খোলশ পরেছে বরফপাতের পর
বিচিত্র স্ফটিক ঠিকরে বেরোচ্ছে একটা একটা সংযমী শাখা
ফুটবল মাঠে কুকুর হাঁটাচ্ছে নিকোলাস। আমি ফ্রস্টেড কাচ খোচাতে খোচাতে লক্ষ্য করি। পারদ উঠছে
নিকোলাসের কুকুর বরফ কেটে দৌড়ায় গোলপোস্টের নিচ দিয়ে
শেষ যারপুত্রের অসুখ যাদুমন্ত্রে সারিয়ে তুললো রাসপুটিন? বড় বড় হিমশীতল চোখ

যা চিহ্নিত করা যায় না, তা প্রথমত বিরক্তিকর। দ্বিতীয়ত ভীতিপ্রদ। যা চিহ্নিত করা যায়, তা দ্বিতীয়ত বিরক্তিকর, তৃতীয়ত ভীতিপ্রদ। প্রথমত তুমি।
জানো নিশ্চয়ই, প্রতিটা আঘাতের পেছনে লুকানো থাকে কোনো না কোনো ভয়। সাম্রাজ্য মানেই সাম্রাজ্য হারানোর চাপা আতঙ্ক। খোয়া যাওয়া তো হারিয়ে ফেলা না, খোয়া যাওয়া হলো নিজেকে বদলাতে চাওয়ার ভয়। যাকে চেনা দরকার কিন্তু চিনতে পারছো না, তার প্রতি তুমি ছুঁড়ে দেবে নিদেন পক্ষে তোমার প্রিয় বিসন্ন আক্রোশ। অথবা মনের মতো ভুল বুঝবে। পরিণামের এলার্জিগুলি সাজিয়ে তুলবে চাক চাক রূপকের উপর।

আসলে তো কিছু আবেগের সাধরণ হবার টান। আমার তাতে কিসের কী? যে গালাগাল গায়ে মাখে না সে কম সাংঘাতিক মাল না। লোকে তাকে শেষমেশ এড়ায়ে চলবেই। চিড়চিড় করে ফুসে উঠছে ব্লেড। অদ্ভুত পিছল একটা খাড়ি। দড়ির মতো নেমে যাচ্ছি। কিন্তু কিনারের বাঁধন খুলছে না। নাকি বেঁচে উঠছি।
আমার দরকার চিড়িয়াখানায় গিয়ে গন্ডার দেখা।

ঝুলবারান্দার পাশ থেকে বল্লমের মতো লম্বা আর চোখা একখন্ড বরফ খসে পড়ে হঠাৎ
রূপার গাছ গেঁথে ফেলে

হাসি বলল বাক্যবিনিময়। 'সুতরাং' শব্দটির নিবিড় প্রতারণা। ফুঁটিয়ে তোলা কেন শুধু সেই মিথ্যা সামঞ্জস্যের সম্পত্তি হবে? হাসির কথা মনে পড়ে। হাসি অর্কিডের বাগান করতো।

হাসি বাঁকা। অর্কিড যে কতরকম জানতে চাওয়ার মানে হয় না তার কাছে। অর্থাৎ হাসি বলতো যে নানা রকম অর্কিড থাকে কুঙ্কুদের ভ্যাপসা জঙ্গলে। কিছু অর্কিড হয় পাখা মেলা গোলাপি মথের মতো। কিছু আছে ফড়িঙের মতো। কিছু দেখলে মনে হবে পাঁচটা সোনালী মাছি একটা লাল আঙুর ঘিরে ধরেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে।

পরাগায়ণ হাসির মূলসূত্র। হাসি সংক্রামক। প্রত্যেকটা ফুল হলো একটা একটা ডাকঘর। অর্কিড তার রেণুবাহী পোকাদের চুম্বক। একটা নির্দিষ্ট গোত্রের ফুল একটা বিশেষ জাতের পোকা হারিয়ে গেলে পশরা গোটাবে। ওর এক পাশ জন্মগত ভাবে বিসম। হাসি দেখলে বাচ্চারা পালাতো। ফুল কিভাবে মুক্ত যৌনতার প্রতীক হয়ে উঠলোনা -এই নিয়ে বাক্যালাপ শুরু হলে প্রাপ্তবয়স্করাও পালাতে শুরু করে। কত ছবি যে আঁকা হয়েছে ফুলের। কত দেবতা যে আসলে ফ্লোরা দেবতা। কত ফুল হয়ে উঠলো গভীর আস্তিক! যেমন প্লাস্টিকের পপি। গায়ে বিঁধিয়ে ঘুরে বেড়ানোর চল শুরু হলো মৃত্যুদিবসে। যেন লোকটা মরে নাই, অনেক আফিম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর পোকা উড়ছে কুঙ্কদেশে। লোক পুড়ছে নিজের মনে রাজি না হওয়ায়
কতবার ভেবেছে
দেয়ালে তাকিয়ে থেকে থেকে। ফুলতোলা টালির গায়ে প্রজাপতির নকশা আঁকা টাওয়েল। বসছে না কেন
বাক্যালাপ। বাক্যালাপের কায়দা কানুন
হারিয়ে যাওয়ার যে পাপ টের পাওয়া যায় না হারিয়ে যাবার সময়
কখনো সে গণকের গোল
কখনো সে জবাই করা ভেড়া - মর্তমান হয়েও হলো না, মর্তমান হলো একটা একটা
মানুষের মধ্যে তুমি সাধু দেখবে, চোর দেখবে
কিন্তু আমি তা'ই
যা তুমি কার্পেটের নিচে ঠেলে দাও। আমি তোমার অসামঞ্জস্য
আমাকে গালি দাও। গলমন্দ করো
আমাকে বলো ফুল লতা সার যোনীতে সমস্যা কী? কোনো সমস্যা নাই। সমস্যা নিয়ে মাথা ব্যাথা করে না। ফ্লোরা ফ্লোরা ফ্লোরা। আমার হাসি দেখলে তার গা রিরি করে। ক্ষেপে গেলে অস্থির লাগে খুব। নিজেকে আলাদা করে ফেলতে চায়। কবির স্থিরতাপ্রিয়। তার কড়া নাড়ার শব্দ শোনার বাসনা অন্য রকম, দরোজার জন্ম দিতে চায় না। এঘর ওঘর করে। পেঁয়াজ কাটে কবির। রাস্তায় নেমে পাড়া বেড়িয়ে আসে। জঙ্গলে ঢোকে। হরিণের পদছাপ। ফ্ল্যাট। লন্ড্রিঘরে সারি সারি কাপড় ঘুরছে। চিঠির বাক্স ভরা বিজ্ঞাপন। সারাদিন সারারাত গুটিয়ে থাকে কাঁথা। খুব রাগ করে লোকটার উপর। প্রচন্ড আক্রোশে বুকশেলফে লাথি বসিয়ে দেয়।

ফালতু চিন্তা

ছটফটে কুকুরের থেকে শিকলকে নিষ্কৃতি দিতে দিতে
স্পর্শের কথা ভাব, তার পরিসীমার কথা
ভুলে যাও—শেকল একটা অস্বচ্ছ ধারণা মাত্র
যে কুকুরের কাছে চিরকাল স্বচ্ছ থাকতে চেয়েছে
--
বড়জোর অনুপস্থিতি
অদৃশ্য হয়ে উঠবে না কেউ
একধরণের পতন সর্বত্র, সবজায়গায়
নিহিত—এটা জানার পরও
পতনশব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়
আর অনুনয়, শুধু অনুনয় আমাদের ধরে ফেলে
প্রতিধ্বনির মধ্যে ডুবিয়ে দেয় নিজেকে
স্তব্ধতার মধ্যে
--
সংঘর্ষের আগে যে আবহাওয়া গ্রহণযোগ্য ছিল
যথেষ্ট নিরাপদ ছিল আমাদের একা থাকার
অভিযোগ ও ইচ্ছেরা
আর উৎসকে অস্বীকার করে
রঙ বদলে ফেলা আলো
নেমে যাচ্ছিল

এভাবেই আমাদের নেমে আসা

শেকলের কাছে ঋণী থাকার স্পৃহায় ঘেমে ওঠা ঘাড়

বাতাসের দৃশ্যমানতার কথা ভেবে দেখার

সময় ছিল না ।
--
দৃষ্টি বলতেই
অদৃষ্টের কথা মনে পড়ে
কপালের কথা
ঠিক মাঝখানে
কালো ও নিখুঁত ফুটো
ছোট ক্যালিবার
পিস্তলচ্যুত

খুনী ফিরে গেছে অনেকক্ষণ

এখন পরিস্থিতি ফিরছে
--
জড়তা যদি একটা পরিস্থিতি হয়
তবে অনস্বীকার্য
হয়ে ওঠে তার প্রবাহমানতার দাবী

ওফ ! এই মহিমাময় জীবন
ওফ ! আমাদের সীমাবদ্ধতা
--
--
কিছুটা তো রহন সহন
কিছুটাকে নিভৃতিতে পায়
হাত থেকে খসে পড়ে কাঁসার গেলাস
কোথাও শব্দ বাজে
কোথাও বাজে না

আশংকার সাথে দেখা হয়
কুশল বিনিময়
হাত নেড়ে যে যার মতন
ঢুকে পড়ি ব্যঞ্জনার মধ্যে
অনুভূতির মধ্যে

--
বিছানায় কারা জেগে আছে
জেগে আছে মোদ্দা কথারা
শান্ত একটা ঘুম প্রতীক্ষা করে
প্রতীয়মান হয়ে ওঠার কথা ভাবে

শেকল বাইরেই রয়ে গেছে
ভয় হয়—যদি বরফ পড়ে
যদি চোর আসে
অন্যধরণের পায়ে
হাল্কা শীত শীত করে

বিশ্বাস ছাড়া কেউ জেগে থাকে না ।
--
বিশ্বাস যদি স্থির হয়
তবে জড়তাও একধরণের বিশ্বাস
এইসব আলোচনা হয় শেকলের সাথে
সামোভারে হুইশল বাজে
ভাপ ওড়ে
কিছুটা আমাকে ঢাকে
কিছুটা শেকল
অন্তরীণ উপকথাগুলি
চকচক করে
--

Wednesday, February 15, 2012

an unmanned poem

We were born of habits
Our habitats never chose us
Into fables we ingressed
Our fables digested us
--
Looking back…
First time I felt whole
Was after I was sucked hollow
By the troll
It ate my heart, gnawed at the bones
Scooping stomach juice
Onto ice-cream cones
Liver it ate fried
Intestines raw
Of kidney it made a pie
And threw a chunk to the crow

And it burped and it picked its teeth
And we went our ways
I’ve been serene ever since
--
When you can’t define the hollow
Call it serenity
And I thought a profound sadness deserves
To be called serene
But it’s our guilt
That fills the space
Between
You
Me
And our gods
Who were serene to beginwith

A rigid burst of air between the scapulae
--
You mind! Do you mind
That the guilt is gone
And so is the local coal vendor
Our premises will be clean now
Clean and a clinical loneliness
Fluttering mindlessly

Our eyes hurt no more
Than it should in blinding light
--
A sob that escapes
A whore who regrets
Between banners
Our guilt is spread
To be eaten and faecalized

I’ve not seen your face
Since long
And haven’t faced my patience
Yet
your face and my patience
Meet between sobs

Regret is convex
I should’ve known.

Thursday, January 26, 2012

এখনো সর্বনাম
খসড়া শূণ্য

paul morand এর মতে গতিবেগ ধূসরতার জন্ম দেয়।
প্রমাণ হল... আরে না, জাইরোস্কোপ।
আড়ে দৈর্ঘ্যে, সবেতেই, স-বেতে, বেতহীনেও বোধহয়।
তিন লোকে বার্তা রটে গেল।
টিন, পাত, ইস্পাত, যা হোক করে, কড়াকড়িতে।
তিন-ই কিন্তু, আমি জোর দিই, জোড় ...
যা হোক।

ইচ্ছে সময়ের সাথে আনুপাতিক হারে চলে,
কার পুত্র এরূপ বলেছে! বিদগ্ধ বিরূপ বন্ধু জিজ্ঞাসিলেন,
উত্তর দিইনি।

কিন্তু আমি ত দেখেছি, ছুরির ঠিক ওপরে
কৃষ্ণচূড়ার ছায়া,
বাক্যালাপে দীর্ঘতা, গামীতা,
অনুবর্তি,
damsel without a dulcimer...

দেখেছি ছুরির ভিতরের ছায়াও।

অন্তঃপাতী চরিত্রগুলি অতিসংযমী, ক্ষীর ও কুসুম
একত্রেই। মধুর মজ্জাগত। মদ্য, মধ্য, মধ্যে,
কিছু ক্ষেত্রে ওরা 'ও' কারান্ত উচ্চারণ করে।
কারা অন্তে, বাইরে আলো,
নিউট্রিনো

আলোর সমান কম্পাঙ্ক রয়েছে শব্দেও,

কাঁপে তাহলে সকলেই!

শব দো,

শব্দ বোধে ভুল ত হতেই পারে, বাহুল্যে
এই দেখ খেলাপী বন্ধু, আমি কিন্তু আগেই বলেছিলাম, তিন, তিন...

এখানে এখনো কিছু খয়েরি শামুক হেঁটে চলে।খোসাহীন।
এখানে অলীক ক্রোধ ধু ধু উল্কিতে ফোটে।
ফোটনের যাওয়া আসা, কিশোর বাজের চোখ দেখেছে কি???
এখানে এখনো অতিনশ্বর জর্জরিত শীতসন্ধ্যা, প্রলোভীত আস্ফালায়...

জটায়ু বুড়ো হল দিনে দিনে, ঢিমে চলে আজকাল।

তুমি তুমি তুমি

কতদূর নিউট্রিনো?
ভূতাবলম্বী আলো-
এগোও না, পিছোও না!
কতদূর জানে বোঝে এরা-
'এনজয়' বলে
তবু তোমার সঙ্গে তোমার মাঝের দেওয়াল কেন আলো নিরপেক্ষ,
নিউট্রিনো?








Saturday, January 14, 2012

ম্যাজিক শহর

রহস্যমুখ থেকে ময়াময় নামিয়ে
ক্লোজআপে রাখছি দৃশ্যায়নগুলো
অদৃশ্য অয়ন
হেঁটে
হেঁটে
সম্প্রসারিত ডানা খুঁজছে এমন
যেন এইমাত্র
আবিষ্কারে উড়ে যাবে
ম্যাজিক মাশরুমে ফোটা শহুরে বিভ্রম

স্ফূর্তি লেখা রাস্তায় গাঢ় লালবাতি জ্বলে গেলে বন্ধনে মগ্ন হয়ে ওঠে ঝিমরাতের মানচিত্র। অরক্ষণীয়ার বেওয়ারিশ যোনিমুখে ঠোঁট বুনে দিয়ে যায় সুললিত সুড়ঙ্গপথ

পরিপাটি গন্ডির ভেতর
উড়োপাখি
উড়তে
উড়তে
এলোমেলো করে দেয়
নিভৃত কাঠামোয় জড়ানো সুতো
আলগা হয়ে আসে আঙুলের স্বরধ্বনি

অতর্কিত কথার ঝাঁকে তুমি বিশেষণে নেমে গেলে বাহুল্য মনে হয়
আজকাল। বি পূর্বক সেশন বসিয়ে এই যে তোমার হিসেবের পারিপাট্য, সেখানেও মাথা গুঁজে পড়ে আছে অলীক তৃষ্ণারা। শূন্যের জলছাপ মাখা সুড়ঙ্গে কার মুখ? কবেকার চোখ খুঁড়ে বাসা বাঁধে অন্ধবিন্দুরা?

তোমারো তো পথ আছে
পথিকে যেমন
অবস্থান ভেঙে ভেঙে পায়ের উল্লাস
স্লো-মোশানে ফুটছে নিসর্গ
শিমুলে না তুমুলে ভাবনার আগেই
তুমি

তোমার চোখ
চোখ গড়ানো ভ্রমরামি

ইদানীং মহড়াপ্রবণ বৃন্দাবলির জল সইছে শহরকোঠা। তালভাঙা কোরিওগ্রাফি থেকে মহীনের ঘোড়াগুলি ধীরে নেমে এলে আলোরাও গা থেকে খুলে রাখে ঝলমলে মুখোশ। মুখের জলধ্বনি। জলরোলে আকাশ ডাকছে জীবনমুখী মুখড়ায়


তোমারো তো দর্শন আছে
আয়নাফেরত দৃশ্যতায় যেমন
বেজে ওঠা মাত্রাবোধ
চলকে

চলকে
জলকে চলার অভিযোজনে
কথালীন হয়ে ওঠে
রক্ষণীয়ার ভেতরবাড়ি
বিদ্যুৎতরঙ্গ
সুড়ঙ্গ

ক্ষরণের মাত্রাবোধে হেরফের হলে শাহরিক শর্করা থেকে উপচে ওঠে মৌ সংক্রান্ত স্বরধ্বনি। ডায়াটোনিক অবরোহে কোমল হয়ে আসে গান্ধার। জুয়াঘরের প্রতিটা জানলায় নেচে ওঠে আশাবরির তুমুল গল্প। বাজিকরের আঙুলে পণ রেখে দেখেছি তোমার শহরে কোনো হারজিতের গল্প নেই


আঙুলের গল্প
তিনটে আঙুল
তুমি দাগের কথাও ভাবতে পারো
কিংবা ভগ্নাংশ
আমি অংশ নিয়ে
ঘুরে
ফিরে

ইতিবাচক সবুজ আলো নিভিয়ে যৌনসদনের বারান্দায় ফুটছে লাল রুমালের বিষোৎস্না। মার্জিনে রাখা মেয়েলি সিগন্যাল অমার্জিতের মর্যাদা রেখে আসে ফুলমাসির মৌভোলা আঁচলে। খুন হয়ে যায় ভাবনার পারম্পর্য। অস্থির পৃথিবীর ভাস্কর্যসম্ভব প্রতিমা। ফলত সাইরেন বেজে ওঠে পুলিশি প্রতিষ্ঠানে


কালাপাহাড়ি এই শহর
ম্যাজিক খচিত ট্র্যাফিক লাইট
নেভানো ল্যাম্পপোষ্টের নিচে জুয়া খেলে
তারাদের ছায়া

জ্বলে
নেভে
নেভে
জ্বলে

আলোরা তখন নক্ষত্র নেভানো ভুবনডাঙার চর্চাপদে দুপেগ আড্ডারোলের এলিজি লিখে রাখে। পরকীয়ার পান্ডুলিপি শুয়ে থাকে তাসবাড়ির চাঁদচোরা বিছানায়। ভুল প্রেমাবোল তাবোল ফোটাচ্ছে হাইরোডের অবৈধ হরফে

ইস্পাতে গাঁথা শহরতলায় বদল আনে নদী
ধারাবাহিকতায় তুমি ফুটে উঠলেই
পরম্পরার ধারালো ধনুঃস্বরে জেগে ওঠে
মহাকাশের বিন্দুবাসিনী অবুঝেরা
ছায়া থেকে প্রতিচ্ছায়ায় নেমে আসে
ঘাত
প্রতিঘাত

ঘাতের ভেতর নাগরিক পংক্তিসকল। প্রতিঘাতে জেগে থাকে নিবিষ্ট দর্শন। চোখের কুর্নিশগলা নির্যাস পান করে শব্দ ফুটছে অবাস্তবের রোদচশমায়। নিরাময় ডাকা জানলায় একপ্রস্থ নতুন লিখে রাখি রোদগ্রস্ত আঙুলের তুমুল উল্লাসে

চাঁদগলা কুহকের বিরুদ্ধে এই যে আমার স্বড়যন্ত্র
ওঁকার বুনছে দিনরাত
কে তুমি
কেন তুমি
কোথায় তুমি
যেন তুমি তুমি করে ঝরে যাবে
দীর্ঘশ্বাসিত সমস্ত বিরহ সংবাদ
আর শ্রবণমহলে জেগে থাকা নিরন্তর ‘হুম’
নীরবতা খুঁজতে বেরোবে ইনফ্রাসোনিক শব্দমহল্লায়
হল্লাবাজের হলাহলে হাত পেতে দেখো
ওল্টানো রুইতন
আঙুলের উদ্বেগ
অলীক বিদ্রোহ
সব তুমি ছাড়া
যেমন তুমিও তুমি ছাড়া

চলো, দেয়াল ভাঙি। গড়ার আগে। কারণ সিলিকায় দেয়াল গড়ে দিলে ঝাপসা হয়ে আসে দর্শন। দেয়াল ভাঙা শব্দে মুক্ত হয়ে ওঠে প্রথার অনুগামী সমস্ত গদ্য

তুমিও তো দেখেছ
দেয়াল গড়ানো ফোঁটা ফোঁটা জলের ভেতর
ওল্টানো ঘর
ঘরান্তরিত অভিযান কেমন বিস্ময় ফোটাচ্ছে
লংমার্চে নামা বিশ্বকণার পায়ে
এসো
বসো
বলতে বলতেই
ভুলমহল্লায় বেজে উঠল বোসনের মহিমা
নতুনকে নতুন উজাড় হয়ে যাচ্ছে
তোমার সংঘর্ষবাতিক সুড়ঙ্গে
সৃষ্টের চোখ বরাবর সৃষ্টিকে নামিয়ে আনার খেলায়
খেলছি তোমার বুননগ্রস্ত আঙুলে
দেখতে
দেখতে
ফুরিয়ে ফেলছি রোদসাধা রাধার
রা-না-দেওয়া ফোটনের গতি

গতি হারানো চোখে তখন আভ্যন্তরীণ স্বপ্নদোষ। দোষাণুগ্রাফিক কম্পোজিশানে আমি পায়রা বসাই। ঠোঁটচঞ্চল বিম্বাণুরা হারমোনিকপ্রবণ হয়ে উঠলে বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে হরমোন। প্যাভলভের বিজ্ঞান সীমানায় উলটে পালটে লিখতে থাকি প্রতিবর্তী ক্রিয়া

চলো, মূল্যবোধের স্যাঁতানো সূত্রগুলো ছিঁড়তে ছিঁড়তে যাই। প্রগলভ কবিতাপ্রণালীর পাশে রেখে আসি নতুনের কুরুশকাঁটা। বুননের যোগাযোগে দেখো, কেমন অনিবার্য হয়ে উঠছে সমস্ত বিভ্রান্তি

না-কবির কোনো ভ্রান্তি নেই
ছায়া থাকে
আলোও কিছুটা
কবির আলো-না-আলোয় বোনা ঘর
হু হু আলোর পিছনে ছায়া দিয়ে বোনা মৌচাক
নিঃশব্দে জ্বলে যাচ্ছে মোম
আলোছায়ার মাধ্যমের ভেতর তরুণের পাণ্ডুলিপি
খুলে রাখছে বারোয়ারি গ্রন্থিসকল
মন্থনালয়ের বারান্দায় ফোঁটা ফোঁটা জীবন লিখছে
কাচঘরের ইশারামুখর দর্শন

দর্শনানন্দে ফুলিয়ে তুলছি বেলুন
হাওয়ার ভেতর আকাশকুসুম
উড়তে
উড়তে
মনস্তাত্ত্বিক আঙুলে
ঘুণ লাগা নখের ভেতর গজিয়ে উঠছে শারীরিক বিকার, হাওয়াবাহী শিরা উপশিরায় গঠিত তাদের
হাত
পা
মাথা
গঠনের ভেতর প্রাত্যহিক মান
মানদন্ডে মাপা অভিমান
কিছুটা অনুরাগও বলতে পারো

হাড়ের ভেতর লাফিয়ে উঠছে ছায়া। উন্মাদ অবসরে উড়ে আসে কালো মেঘ। মাঝরাতে বেলুনওলার ঘন্টি শুনি শ্রবণবিরোধী নিউরোনে। অসহযোগ আবর্তে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরনবাতিক পৃথিবীও অন্তরঙ্গ হতে থাকে স্বরূপে

উহ্য রাখা অর্ঘ্যর গায়ে অনুক্ত ঢাল বসাই
কোমল হয়ে আসে বাঁকানো ধনুঃস্বর
মনস্তাত্ত্বিক আঙুলে তখন বিচ্ছিন্নতার লড়াই
উড়ন্ত বেলুনের সুতো কেটে যায় নিঃশব্দে
একা হাওয়া
একলা আকাশ
একপশলা প্যাশান
অলখ স্বরে ডেকে নেয় কমলা রঙের বেলুনগুলো

বেলুনবালার আঙুলে জড়ানো প্রফুল্লরা ক্রমে নিভে আসে কনেদেখা আলোর দাগানো শ্যামবর্ণে। মধ্যরাতের অন্ধকার চাঁদঢলানো ঘুমপাহাড়ের গায়ে লিখে রাখে গাঢ় রাত্রিত্বক। ফর্সা হওয়ার ক্রিমের ভেতর নিশ্চিন্তে ঘুম যায়
স্মৃতি
বিস্মৃতি

আমার ঘুমের সমস্যা জেগে থাকে
সিঁড়িভাঙা দ্বন্দ্ব নিয়ে ভেঙে ভেঙে যাই
যাই কেন প্রভু
যাওয়ার তো কোনো আসা নেই
তুমি স থেকে শ করতেই পারো
পুরে ফেলতে পারো সোনালি খাঁচায়
আমার সমস্যা তবু জেগে থাকে
গরাদের ভেতর
না-ঘুমের ভেতর
তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে তার সূচিমুখ

প্রতিরাতে একটু একটু করে বর্ণান্তর ঘটে যায় সেরিব্রামের কোষকলায়। কোষের মধ্যবর্তী শূন্যস্থান দখলে আসে তোমার। বিজ্ঞাপনের নেশানো অস্তিনাস্তি গুনগুনালে ঘুমহীন ঘোরে বেঘোর হয়ে ওঠে কোষের দেয়াল

কেন্দ্রমুখী ভ্রূণ
বদল ডেকে ডেকে
ঢেকে ফেলে বহিরঙ্গের খোঁচাওলা গথিক
অন্তর্গুহার দাওয়ায় উড়ো হাওয়া
গুছিয়ে তোলে কুন্তলিমা

আমি তখনও বিনুনি বাঁধার মোহে সাজিয়ে তুলছি কুন্ঠিত আত্মজাকে। অন্ধকার সিঁড়িঘর সরে আসছে সন্তপর্ণে। মাথার ভেতর ক্রমশ জেগে উঠছে আলোবাসার চিলেকোঠা

দৃশ্য বাজিয়ে সাদৃশ্য আনছি তোমার বাঁকজর্জর গ্রীবায়
অনুকূল চোখের সংশয় থেকে
অন্ধকারের অচলাবস্থা থেকে
ডেকে নিয়ে যায় প্রজাপতি

বিরহবাদের ফুটপাথে নেমে আসে রাধাসদনের কৃষ্ণকলি। প্রেমফ্রেমের কাটাকুটি খেলায় ভুল চলনের শূন্য বসাতে বসাতে গেঁথে ফেলছি একটা গোটা বিষণ্ণ রাত। অনিবার্য কালবেলা

ঢ্যাঙা রমণীয়তার ফ্যাশান শোয়ে
রতি ও নিয়তি
সমতুল্যে ঝুলে থাকে মানদন্ডের দুপাশে
তোমার রাতচরা আলো জ্বেলে
উজান বাইছি সিঁড়িঘরের অন্ধ ঝিলমিলে
রং চাইছি
ডানা চাইছি

চাওয়াবাদের সিম্ফনিতে লিরিক গেঁথে গেঁথে শাহরিক ট্রামলাইনে জিইয়ে রেখেছি একটা গোটা যুগের নির্বানন্দ। তুমি দেখলে না রঙমহলের বারোয়ারি প্রতিযোগিতা থেকে কখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল সন্ত্রাসীদের দল। নতুনের চলচঞ্চল পায়ের জলছাপ ট্রামলাইনের চিহ্ন মুছে নির্মাণন্দে গড়ে তুলল আনন্দনিকেতনের খোলা হাট

আনন্দ এক অন্তর্বর্তী সেট
এপাশে ওপাশে টাঙানো
কিছু আশালীন কুয়াশা
কিছু বিষণ্ণতার রোচনামচা
ভুল মরসুমে ভেস্তে যাওয়া দলীয় সমাবেশ
বদল খুঁজছে
কেলাসিত এই শহরসময়ে
সেটের হাতলে আপৎকালীন শব্দ বসিয়ে
টেনে রাখি প্রসারণ ক্ষমতার ছড়
হাইফেনের টানা সড়কে নেচে ওঠে
আমাদের অবস্থান

গত দুদিন বা আগামী দুদিনের চর্চাপদে বাড়তে থাকে সেটের সম্ভাব্য সীমানা। অসীম সংক্রান্ত সমস্ত পারমুটেশান থেকে একটা একটা করে তুলে ফেলি বিন্যাস। দেখো, স্রষ্টালজির শৃঙ্খলা মুছে শব্দেরা কেমন পা ছড়িয়ে বসে আছে তোমার প্রশ্রয়ে। মনোরঞ্জনের ভেতর এই যে তোমার মগ্নতা, প্রশ্রয়ের ভেতর এই যে তোমার দিগন্তবোধ, কোথায় জমাবে তার মুহূর্তের হিসেব

এই কাল
এই ক্ষণ
কিংবা অবস্থান থেকে তুলে নিই পারস্পরিক সমবায়প্রথা
প্রথাবিরোধী শমন জারি হলে
নিয়মাবলির গ্রন্থি খুলে আবার গাঁথতে বসি
অজানা সেটে
অচেনা মন্থনে

অন্ধকারের রূপটান থেকে রঞ্জনরশ্মি তুলে তুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আনোখা রূপকল্প। সরলরেখা বাঁকিয়ে চুরিয়ে আলোরা ঢুকে পড়ছে মাশরুমের ম্যাজিকে। শহর ফুঁড়ে জেগে উঠছে মনোবিকারের মানোয়ারি জাহাজ। মনস্তাত্ত্বিকের পিছল মস্তিষ্ক বেয়ে যোগাযোগে নামছে বাতাসের মই, রসায়নে গাঁথছে কোষবন্ধন সেতু। পারাপারের পায়ে কথারা নেচে উঠছে সাপের গায়ে গায়ে। ফিসফিসে নেমে যাচ্ছে তোমার দেখার পার্সপেকটিভ। আসলে দেখার জন্য পায়ের নিচে কোনো গন্ডি দেবার দরকার নেই। গোল পায়ের ছকে তুমি নামতেই পারো পাগলের ভূমিকায়

প্রস্তাবনায় রাখছি কিছু সুগন্ধ
কিছুটা ক্লিনিং এজেন্ট
লুকোনো সবুজের চারা
তকতকে হয়ে উঠছে বাথরুমের আয়না

ছায়াপ্রবণ মেঘ ডাকলে বৃষ্টি খসাবে আয়না আর তুমি হয়ে উঠবে মুহূর্ত। মুহূর্তের গায়ে জেগে উঠবে দুএকটা ছক।পরিকল্পনার অভাবে হ-য-ব-র-ল খোপ। ছকবাঁধা চৌরাস্তা শেষ থেকে শুরু থেকে অলিগলি খুঁজে খুঁজে হয়রান। দু মিনিট নীরবতা পালন করো হে। দেখছো না, রাত নামছে খোপের
ঘরে
বাইরে

মাঝরাতে পৃথিবীর প্লেটোনিক লভ্‌
লভ্যাংশ কেটে রেখে সরে যায়
শূন্যের সরগমে
কেঁপে ওঠে যোগাযোগ সেতু

এইসব সরে যাওয়ার ভেতর জমা হতে থাকে আমাদের কথারা। কথার গায়ে লেগে থাকা দৃশ্যরা মই ভেঙে ভেঙে উঠে যায় পাগল চোখে
পা গোল
তার চোখসংক্রান্ত মিথ
জলছলে টলটল করে ওঠে
জলতলে রাখা আয়না ভূমিকা গড়লে সমস্ত জলযাত্রা স্বচ্ছ হয়ে ওঠে মনোবিজ্ঞানের স্বতন্ত্র শব্দে



Thursday, January 5, 2012

History repeats itself
I am history
I have every right to repeat myself
--
স্মৃতিও কমলা হল
সমস্ত দোটানা যেভাবে কমলা হয়ে যায়
ভালো লাগে কর্মসূত্রে
নিজের থেকে দূরে থাকা
পিঁপড়ের ঢিবির পাশে উবু হয়ে
নিজেকেও মনে রাখা,
ছুটকো প্রশ্রয়, সিগারেট দু’একটা
কিছুটা তো সঙ্গত হওয়া যায়
কিছুটাকে সঙ্গত করে তোলা
হৃদ্যতার কাছে বসে থাকো
ভালো লাগে তোমার অস্পষ্টতা
তুলনাপ্রবণ ঘাসে রোদ পড়ে
একই রোদ গ্রীলেও আছড়ায়
স্মৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে সক্ষমতা বাড়ে
আর সব কিছু কমলা হয়ে যায় ।
-------------------

হাত
---
তোমার স্তিমিত হাতে
ধ্বনি ও স্বরূপ দুই ক্রীড়াশীল
অল্প অল্প ভাপ ওড়ে
আলগা হয়ে যায় বিকেল
আঘাতের কথা মনে পড়ে
সারল্যের কথা
পূর্ণতা কী ভাবে অব্যবহৃত হয়ে থেকে যায়
তার কথা, স্তিমিত হাতের কথা
অল্প অল্প ভাপ ওড়ে
--
সময় নয় ঘড়িটিই একটা ধারণা
আর ধারণা মাত্রেই যে অপারগ
ধার নেই, ভার নেই
ধারণ করতে পারে না বহন করতে পারে না
এটা বুঝতে এতদিন ঘড়ি পরে বেড়ালাম
মিথ্যে মিথ্যি কব্জিতে রোদ পড়ল না বহুকাল
--
হাতের কাছেই আছে সব কিছু
স্পর্শটুকু ছাড়া
এমনকী ভুল করে ভুলে যাওয়া
ঠিক করে নেওয়ার মত অঙ্ক
আর কত লোক হাত নেড়ে চলে গেল
চিনে না চিনে
সবাইকে বলি-- ভালো থাক তোমাদের হাত
হাতে লেখা মতামতগুলো
ভালো থাক হাতে হাতে অতঃপররাজি
--
টেবিলে তরঙ্গ ছিল
খানিকটা পড়ে আছে আঁচ
অবারিত আর্বান হাতে কাঁপা-কাঁপা গ্রামীণ কবিতা
আমিও লিখেছি
টেবিলে তরঙ্গ ছিল
তাহাতে পড়িয়াছিল কৃষ্ণচূড়ার ছায়া
শহুরে ও ফিকে কৃষ্ণকায়
হাতের ছায়ার পাশে অর্থহীন অথচ
মানানসই
--
শুশ্রূষা কাহার হাতে – এমত প্রশ্নের উঠানে ঝাড়ু পড়ে – পাতাগুলি ওড়ে শুদ্ধশীল । প্রতিশ্রুতিময় সেই সব পাতা, চোখের, হাতের, কবিতার খাতার, অজস্র যাতনার পাতা । আঘাতের মতই সরল ও বিবেচনাহীন ।
--
দূরের কাঠামোগুলি আলোকিত ছিল, ফলে দূর, দূরতর ছিল । ভারসাম্য ছিল—দৃশ্য যেমনই হোক, দৃষ্টিতে যে ভারসাম্য থাকে... এইসব আমাদের ঋণী থাকার গল্প, অনুভূত হয়ে ওঠার প্ররোচনা ও পদ্ধতিময় ...রাত বাড়ছিল, আলো বাড়ছিল, ছায়া বাড়ছিল—দূরগুলি দূরতর ছিল । অল্প অল্প ভাপ উড়ছিল ম্যুরাল কারখানায় ।


পরিবিষয়ী নয়, অবিষয়ী কিছু বলা যেতে পারে । পোষ্ট করা ঠিক হল কি-না বুঝতে পারছি না-- তবু...

Wednesday, January 4, 2012

The Memorandum Poetry Reading Event



২৯শে নভেম্বরের পাঠের একটা ছোটো অংশ।

Tuesday, January 3, 2012

সম্নিলকি-১৪









দূর আর ঘনর প্লট কি একটা মৌলিক সরলরেখা? অশ্বক্ষুর?
উপবৃত্ত ?

কল্প নাহয়
বাস্তবিক
তোমার গায়ে আমার শার্ট
তুমি আমার শার্ট গায়ে কেমন কুৎসিত

পনির গলছে কি না?
তুমি শোনাও রেণুর কথা – অনেক টানের পোকা, কি বাঁক
কি একটা ব্যাবহারযোগ্য মিথ
ঢাল হলো ভাবনা
একটা তামার ড্রাম
বাদকদলের স্ক্রু ভেঙে গড়িয়ে নামছে ঢাল বরাবর
তাওয়ায় পনির , ঘনত্ব , সুরের ঘন
মূল করে ভাষা
যেন কিছু দুরবীন কাছে আসতে চায়। ছোট কাচির ব্যাগ লুকিয়ে, উত্তোলিত কয়লা লুকিয়ে
আঙুল চাটছি, নখ চাটছি
রান্নাঘরে
কেউ গয়না খুলছে না কি, যেমন করে কথা বলো তুমি

যেমন করে উল্টাস্রোতঃ তোমার বেসিনে আমার মুন্ডু
দুলতে থাকে ফুটা, প্রতিটা পানির লোম আলাদা আলাদা করে দেখো
প্রতিধ্বনি মাপো, বস্তুনিষ্ঠতার জায়গা একটাই
যাদুঘরে সাজানো হাড্ডিগুলি নেড়ে চেড়ে ভালবাসো আরো আরো তামা
পবিত্রতা জরুরী লাগে, কন্ডম সেভাবে লাগে না
যেভাবে কন্ডম লাগে
আমি তাও পাতার মত ঝরে পড়তে পারি
হাবড়া চোখে তাকাতে পারি রান্নাঘরের তাক থেকে তাকে
যখন তুমি লতা গুল্ম ক্ষুর

"অনেক টানের পোকা থাকে – যে যত জটিল ভাবে আত্মমুখী
সে তত উন্মিলিত, তত বাকু, এক দিকে ঘোড়ার মাথা, অন্য দিকে প্রথম কারণ"

আসো তবে সূত্রমত নদীর কথা বলি
অথবা সকেটঃ যার উপর রেটিনা ঘুরছে, বিন্দু বিন্দু রক্তে মিশছে তোমার বিশ্বাস –
বুঁদমাত্র আনন্দ, আনন্দ মাত্র দুঃখ, দুঃখ মাত্র সম্ভাবনা – এই যে ঘন মিইয়ে এলো পূবদিকে
প্রশ্ন করছো। ভাড়া বাসাও বদলাতে মায়া হয়

এরচে করিডোর ভাল
বন্ধ সেলুন
অন্ধকারে চেয়ারগুলি আয়না বরাবর
গুচ্ছ গুচ্ছ ঝুলন্ত পরচুলা
বুড়ো তার দস্তানা পকেটে ফেলে পাঁচটি বলিরেখা বার করে আনে
আর মেয়েগুলি নুফি নুফি বলে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে বারের ভিতর

আসো তবে নিন্দামন্দ করি
অথবা ঘনত্বঃ যেখানে দূর মেশালে পাওয়া যায় তামা
পোকার কথা বলি
ফুলের পাপড়ি দেখে ছুটে যাই কতনা স্তর নিয়ে একটা কন্ডমের মাঝে
তোমার গায়ে আমার শার্ট কুৎসিত

Monday, January 2, 2012

ছায়াপাত







ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্ন

৩৪

বড় বেশি করে ভেবেছো আর্দ্র নভেম্বরের কথা
পেঁচিয়ে গেছে জানুয়ারির কাচের গাছে
ভিজে মাটিতে কি শীত লতিয়ে চলে?
ঋজু পাতায় জলজ ব্যাকরণময়
একটা শব্দ – বাসস্থান – বারবার ঝাঁপিয়ে পড়ে
ছত্রখান করে দিয়েছে চলন
তুমি ফিরতে পারোনা বলে নিজের
অতি সাধারণ চামড়ার দিকে দেখো
সামনের নির্মীয়মান বাড়ির দিকে

মিস্তিরির বউ কি লজ্জা পায়,
সকালের স্নানের সময়ে হঠাৎ বমি পেলো
গমখেতে হলে এমন হত?
এই সিমেন্ট ও ইঁটের পাশে একটুকরো চালাঘর
শাশুড়িও তরুণী কিন্তু ঘোমটা দেয়না
শশুরের তক্তাপোশ থেকে গোঙানির শব্দ আসে
এখনো সপ্তাহে তিনদিন
মেঝের জলদি সোহাগ সে তো গ্রাম বা মেলা নয়
সন্তানের অভ্যাস

বাচ্চা ছেলেমেয়ে দিয়ে ভরে গেছে
সপ্তাহান্ত প্র্যাম কুকুর ও প্রাচুর্য
শুধু কখনই স্নিগ্ধতা না জানা খেলা ঘিরে রাখছে তাদের

তুমি কি এসব থেকে ছিটকে যাও?
শুধু খেলা থেকে ছিটকে আসে রুক্ষ চলন
রাস্তার বাঁকে একটা ভেজা জারুল
পেতেও বুঝি কেউকেটা হতে হয় দূরের শহরে















৩৫

হাওয়া নীচু হয় আর তুমি দেখো কীভাবে ছাই হাত
রুটি তুলে নেয় এই অস্থায়ী চুল্লিশিবির থেকে
কারা বেরিয়ে আসে? দূর থেকে বাতিল মাঠের গায়ে চেয়ে
কতদিন ভেবেছো এখানে কিছু সত্যি নয়
দূরের শহরে বুঝি সন্ধে হল বাজার ও ঘামের পাশে সত্যি মানুষের
চলাচল, কেন চলে আসে বলো এত লোক বাতিল পেরেকের অতিরিক্ততায়
রিক্ত লেগে আছে চিরকাল রাতের দেহে যেমন অনিবার্য
ভারি পুকুরের সত্তা... অথচ আসা থাকে
বারবার অপরিচিত জানুয়ারি কুয়াশায় ভিজে গেলে দূরে কোথাও
চেনা গান মুদির দোকান ফেরত মায়ের হাতে লতিয়ে ওঠে
বাবার ফাঁকা ঘরের সামনে কি দাঁড়ায় একটু আজকাল?
সামনে ব্লেডের পাতাওলা গাছ সমেত
জ্যোৎস্নার ধাতব ছায়ায় বাড়িটা কি ঝাঁকড়া হয়ে উঠেছে?
আর কেউ রাত করে বাড়ি ফিরবেনা বলে সন্ধেবেলা তালা পড়ে
শুধুই টিভির শব্দে শিহরিত হয়ে থাকে কথোপকথন

একটা লেখা

ঘষা কাচ—প্রথা
প্রথার ওপারে ফাঁকা ও প্রশস্ত নতজানু
লাট খায় রূপের রিবন
চরিত্র এখানে থাকে না
সাবলীল বাসাগুলো বাড়ি হয়ে গেছে
কবেই
আটপৌরে বিস্ময় ঝুলে
থাকে ব্যালকনি কাঁপানো তারে
ঠাপ ওঠে ঠাপ পড়ে
জলে ও ভঙ্গুরে
যত দূরে যাও বৃত্তাকার অল্পখানিক ঢেউ
শেষতক কেন্দ্রেই ফেরে (পিরিয়ড) শেষ হয়ে যায়
সাঁঝের বিষয় ফিরিল কুলায়
লেখা ফিরিল না ঘরে
গান হয় এইসব গান হয় কিছুটা সুরেলা
শ্বাস । আঘাত । ফাঁকা ও প্রশস্ত
জলে । ভঙ্গুরে
বাকীটা সংকেত
সংকেত যে একটা ডিকশান – এ তোমাকে বিদ্যালয় শেখাবে না । হাম্পু করে দেবে । সোজা সোজা বল । ফিকশানি গান গাও – রাজার কুমার পঙ্খীরাজে । আকাশ থেকে পঙ্খীরাজ লেদে দিলে কি হবে জানতে যেও না – যতদূরসম্ভব ত্রস্ত বাংলায় ফাঁকা ও প্রশস্ত মনোনিবেশের কথা বল । ডুবন্ত মানুষ’কে বল—জলই জীবন । জলে চাঁদ পড়ে – চাঁদের শৌচকর্মাদি, চাঁদের সাবান কই ? না-কি দেহ ভাসে,
কার দেহ ?
তার দেহ –আটারলি মরণোত্তর ।
(সোজাসুজি বলতে গেলে-- যে শালা ডুবে মরে, সেই শালা মরে ভাসে)
--
আলো ক্রমে আসিতেছে ..................
নিভে
নিভাননী জাম বাটি হাতে খই দুধ খায়
বেপাড়ার মেঘ এসে র্যা লা মেরে যায়
কালিদাসে নেই সেই সব থান্ডার মেঘ
কেঁদো কেঁদো মেঘ
শীতের ডগায়
শিমুল নিভিয়াছিল প্রাক্কালে
এখন সে পাতায় পল্লব
শীত কালে এ মাহ ভাদর
ভরা ভরা ঘড়া ঘড়া

এভাবেই আলগা মলাটে ধরা পড়ে যাবে ! এতটাই ঈশ্বরামি ! ওহো গায়ে লাগে । গায়ে লাগে এইসব প্রজন্মরহিত সমাধান । জন্ম এসে জড়ো হয় হাতে, প্রান্ত এসে জড়ো হয় হাতে – জড় ফুলে নিকেশের আলো – বোঝা যাবে কি ভাবে নষ্ট হয়েছি ? কিভাবে প্রভুরা নষ্ট হয়ে যায় ? নষ্ট মানুষ আর নষ্টামি -- কোন পাহাড়ে, সৈকতে তারা হামা টানে ? এরপর অপলক হয়ে ওঠো তুমি, প্রগলভ হয়ে ওঠে কথা । ঘুম পায় বেধড়ক । ঘুমাতে পারি না ।

ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু
লিখতে পারি না, গায়ে জল থেমে গেছে আটকে রয়েছে পোস্টারের মত তার হুলিয়া দৌড়চ্ছে ডেকে আনছে ক্রমান্ধ গান রাত্রি বরাবর কত লেখা থাকে কত সুর থাকে বোবা বালকের ম্যান্ডোলিন গাধার ক্ষুরের চাট সামলে উঠতে চাইছি অথচ পারছিনা হে নান্দনিক হে গলিত স্থিরতা বোধ জন্ম বহুবার উদ্ধৃত নুন ও শরীর বাতায়নসারি্র সামনে একা তাল গাছ ।
ওহো ক্লান্তি আমার ।
ওহো ক্ষমা তোমার ।
এসো, তোমাকে মতান্তর করে সঞ্চয় করি ।

Thursday, December 29, 2011

বুদবুদের আমি

বুদবুদের আমি
একবার ভেসে উঠে মিলিয়ে যায়
হাসির মত ভোর বেলা, পোঁচ মত, বৃন্ত মত
বুদবুদের গায়ে যেরকম
বুঝে নিলে অসমাপ্ত গল্পের মোহ
বিড়ালটা লেজ নাড়ছিল
লেজ নাড়ছিল
লক্ষ বছর হলো একটা একটা স্তর
একেকটা ঘুমের দরোজা, মাথার কাছে, পায়ের কাছে শিরায় শেকড়ে
তন্ময়, আগুনের স্মৃতিবাহী লাল বৃন্ত পোঁচ
ঝুর ঝুর ধূলার তিরপলে
আমি তো জমা হই। আলো জ্বেলে পাউরুটি
মাইলের পর মাইল
আলোর নিচে
অন্ধকারে কেরোসিনে জলপাইয়ে উল্টে দেই টুকরা টুকরা পাউরুটি
রঙ আর বোঁটার কথা বলো। তখন থেকে ফিরে দেখো
খুলে রেখে চলে যাও একটা একটা স্তন
বুদবুদের সুরে। হঠাৎ হিংস্র রাগে দরোজা লাগাই
লিপস্টিক
একটা গলিত কালো কশেরুকা
হিঁচড়ে টেনে জ্বালিয়ে দেই পিষ্টনের প্রাণের ভিতর
কতদিন জমা করা ঘুম
হঠাৎ ভেসে ওঠা বিশ্লিষ্ট দেখা, বুদবুদের হাসির মতো
হারিয়ে যাওয়ার মতো, বলো হাইহিল, কখন গিয়েছিলে হ্রদের কিনারে
নষ্ট টিভি পর্দায়
নিজের ছায়া দেখে অল্প অল্প ভয় করে

Wednesday, December 21, 2011

দুইটা লেখা

সম্নিলকি ১৩
----------------

কত দূর থেকে আসে একেকটা বরফের দাগ
মনে হয় মিলে মিশে আছি
ভোতা আর দীর্ঘ প্রস্তুতি
অনেক নিচে মাটির ভিতর, পলক ফেলছি না, সোজা সাপ্টা বলে দিচ্ছি না

একা একা শুয়ে থাকি মেঝের উপর
একটা তন্তু নেমে আসে। জানালা ফেঁপে গেছে পানি জমে জমে

কারো কথা মনে আসে না। ভয়ঙ্কর খেলায় কাঁপতে থাকি আমি
একস্তুপ কাপড় – সব সময় ক্যালেন্ডারে দাগানো যায় না
দশক দিয়ে মাপা যায় না, যুক্তি দেখে হো হো করে হাসে
ঠোঁটের কোণা বেয়ে গড়িয়ে নামে কথার জগতে

একটা লম্বা মোম ছুরি দিয়ে চার ভাগ করি
সূতা জাপটে ঠান্ডা হওয়া উৎসমুকূল
আগুন কত আপেক্ষিক ... ... বা চলে যাই সোজা সাপটার কাছে
আমার যে সাপ আছে, ওকে জাপটে বড় হচ্ছে কাচের বাক্স দিন রাত
বড় হচ্ছে – কত দ্রুত ছায়া সরে গেলো
চকিতে মনে হলো জানালার ফ্রেম

|
|
|
------------------
তিনতলার বারান্দায়
------------------

তিনতলার বারান্দা কিছু খালি বোতল পরে আছে
কাগজের গ্লাস, ছেড়া ফিল্টার

ঠিক তার নিচের বারান্দা দরোজা খুলে মেয়েটি বেরোলো
গোলাপের মতো লাল, শূন্য টব – ঠিক তার নিচতলায় একটা হেলানো শাবল

বোতলগুলির উপর
মেয়েটার পিঠে, শাবলে
ধাক্কা খেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে চিকন মেয়েলি স্বরের মতো
মেয়েলি স্বরে ডাকছে কে যেন
রেলিং ধরে
ফ্ল্যাটের চাবি ফেলে দিচ্ছে নিচে

Sunday, December 18, 2011

এখনো সর্বনাম

খসড়া

নিউট্রিনো

অপ্রয়োজনীয় শিষ্টাচারে জড়িয়ে আছে
অবতল স্মৃতি। চয়িতের সত্য চিতের
ভিজে ছাদের ওপর ছোট্ট পায়ের ছাপ
গুটি গুটি... কয়েক।
মাটির ঠিক ওপর দেবে যাওয়া পাঁচ আঙুল।
বন্ধুত্বের সংজ্ঞার মতো পারমাণবিক। ছাপওয়ালা
ছোট গর্ত, চিতের ছাদে... মুঠো দেড়েক।
আণুবীক্ষণিক। আশ্চর্য্য আশঙ্কায় ভর্তি হয়ে আছে।

বৃষ্টিজল জমা হয় ওতে বেশ, দেখা যায়...

নিউট্রিনো যদি

বিধাতার মত সে উত্তিষ্ঠত বৃদ্ধের কি নিরাময় প্রার্থনা করা যায়?
চিত্রার্তের প্রাপ্য জলজ, চিতের ছাদের আঙুল
জলে ভুল, (আরে না না, ফুল ওটা ফুল হবে)
বেশ ভাসে দেখা যায়।
ভাসছে ফুল। মা এর মত লাল ফুল।
সদ্য অ-সিজারীয় শিশুর আওয়াজের
ধূসর জলে, ফলে।

একেবারে শেষ ঘাটের পিছল জল থই থই
লাল জল।

নিউট্রিনো যদি আলোর

আশ্রয়হীন সে বট দাঁড়িয়ে।
দাঁড়, দাঁড়ি।
অসমাপ্ত বাক্যালাপ হেতু মুখ নাড়ে।আবহাওয়া খোঁজে।
অনুকূল/প্রতিকূল।
পুরাণ, বেদসমূহ, শাশ্বত, স্বল্পাধিক।

নিউট্রিনো যদি আলোর চেয়ে

নীরব সোচ্চারে
ছায়াহীন অন্ধকারে কঠিন কিছু মুখ বলছে।
and the quote begins,
"ক র তে হ বে ক র তে হ বে, হ বেই..."
হ্রস্ব ই এর এ দীর্ঘতায়
প্রদোষগ্রস্তের ঈশ্বরেচ্ছার জলছাপ উঠে আসে, আশেপাশে
মুঠোদেড়েক।

নিউট্রিনো যদি আলোর চেয়ে
বেশি গতিশীল কণা হয়। তাহলেও
স্ফটিক করোটি মিথ্যাবাচন কবে?
উগাণ্ডা বা মেরুগর্তে
...
হবে হবে, এও হবে, টবে।আহা গাছ যেরকম
বট বা গাঁদা, ল্যাডিল্যাস, নিদেন,
শী্তকালীন।

পুনশ্চঃ পাঁচিলের এপ্রান্ত থেকে দেখা
ওপ্রান্তের কেবল ঝুলে থাকা পাঁচটি আঙুল।

ওইখানে
গাছগুলি দাঁড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখানে এখনো প্রবল
তীব্র উহাদের ছায়া পড়ে,
কম্পমান, প্রলম্বিত।
উহারা মাটির নিম্নে তাহার চেয়ে বেশি,
যত উপড়ে, ওপরে।।