Friday, June 10, 2011



এমন আঙুলে কি আগুন সম্ভব ?



প্রেক্ষাপটঃ-


তুমুল বৃষ্টির নৈঃশব্দ্য গুটি বাঁধছে আঙুলে। বাধ্যতামূলক দিনযাপন



ফলতঃ-


অ - অনস্তিত্বের নৈরাশ্যরঙ ক্যানভাসে


আ – আলোর ফলকনামা ছেঁড়া কথকতা


ই – ইনসেপসানে গোটানো অন্ধকার


ঈ – ঈশিতার মহিমায় সোর্সকোডও বানচাল



আমি লাটিম থেকে বাক্যবিনিময়ের সুতো খুলে খুলে ঘুরে যাই অনির্দিষ্ট বিষয়ের বৃত্তে



কেন্দ্রযাত্রায় নাস্তি করেছো বহুদিন


তন্ময় ব্যাসার্ধ হেঁটে হেঁটে আলোকবর্ষ তক


তা-না-দেওয়া ডিম ফেটে সম্ভাব্য হলুদ কুসুম


সমে ফেরার ঝোঁকে তর্জনীও অসম



এমন আঙুলে কি আগুন সম্ভব



বিধাতার আঙুল ধরে ধরে যেকটা মোক্তারনামা লেখা হয়েছিল তাদেরই দলিলে দেখো লিখিত নিয়মের পাঁচালিলাল পিঁপড়ের ঘরে ফেরার ধ্বনিতে আমি গৃহত্যাগের শব্দ শুনি



গৃহ মানে গণ্ডী নয়


গৃহ মানে স্মৃতি


যার নেই তার সিঁড়ি আছে


আরোহণের গল্প আছে



দোহাই তোমার


গল্পে কোনো দরজা রেখো না


দরজা তো সকলের থাকে না


অপেক্ষা থাকে


থাকে দেয়ালঘড়ির কলকাঠি


কেন্দ্রাতিগ ভ্রমণে যেকটা সূত্র


পেরিয়েছিল হাসপাতালের গরাদ


তাদের গায়ে এখনও লেগে আছে


সাদা পোশাকের নার্সীয় ঘ্রাণ



মাথা সংক্রান্ত জ্যামিতিতে যেকটা সূত্র ঈষৎ চুম্বনের রেখা টেনেছিল তাদের নিঃসঙ্গ কারুকাজে


ভ্রমরের গুনগুন



নান্দীমুখে করণীয় শ্রাদ্ধসমূহঃ-



ক - কার্যকারণ কিংবা সমাধান খুঁজো না প্লিজ


খ – খননে না জননে কৈফিয়তটা মুলতুবি থাক


গ – গণ কিংবা জন আগে পরে বেছে নিও



আমি তো কাঁটাতাড়ের বেড়া দিইনি কোথাও


তবু কেন সীমানার রদবদল


ক্ষুৎকাতর আঙুলে এখনো রক্তপাত



সুস্থির বিছানায় এখনো জড়িয়ে আছে তৃষ্ণার ধ্বনি


শীৎকারে মাপতে গেলে আলাদিনও


সলতে খোঁজে প্রদীপ জ্বালাতে



আপেক্ষিকতার গল্প তুমি বলতেই পারোআমি তো নিশ্চি নই, কতটা প্রত্যয় অসমান হলে


এমন আঙুলেও আগুন সম্ভব



দরজার ওপাশে প্রতিবন্ধী অন্ধকার


অপেক্ষার অভ্যাসে সাঁকো খোঁজে


গরাদেরা স্পষ্ট হলে জেনো


নদীও একা হতে জানে



নদীর গায়ে ঝুলে থাকা প্রাচীন বদ্বীপেরা


নাতিদীর্ঘ সন্ধ্যার কাহিনী লিখে গেলে


আমি একটা সমাপ্তিরেখা টানি


নদীসঙ্গমে



এই যে সঙ্গমীত শরীর আর তার অন্তর্গত আনন্দভবন, পাশাপাশি অবস্থানের অনিশ্চয়তা আজও দখল করে আছে আমি আর আমার ভেতর আলোখোঁজা দরজা



দরজারা নিহত হলে যাওয়ারা স্বপ্ন দেখে


স্মৃতিজটে ঝুলে থাকে


ফেরার নির্দেশ



অবস্থানের সঙ্গে চলনবেগও মেপে ফেলার স্পর্ধা করলে অনিশ্চিতের সবকটা সুতো ফাঁস খুলে খুলে আবার গাঁথতে বসেকারণ সেখানে তো শুধু যাওয়া নেইসেখানে যাতায়াত



এই যে আঙুলবেলার বৃত্তান্ত ফেঁদেছি


তুমি বৃত্ত খুঁজলে


কেন্দ্র থেকে


একটা


একটা


করে


উৎখাতে নেমে যাবে জীবনমুখী উৎসগুলো


অন্ত ধরে এ... ... টা... না...


হেঁটে গেলেও পারো


যদিও


সেখানে মৃত্যুমুখী বৈভবগুলো


অন্তহীনের অপেক্ষায়



এই যে অসময়ে অন্ধকারের প্রমাদ, তারও কিছু অরণ্যকথা থাকেদৃশ্য থেকে পাখিনাশক সমস্ত দৃশ্য অ-দৃশ্য করে দেখো বনপথে পড়ে আছে মুমূর্ষু আলো



বরাবর দেখেছি আলোরা শুরুর কথা বলে


যেমন


তুমি


আশা


ভালোবাসা


ইত্যাদি


প্রভৃতি


ইদানীং প্রতীকরোগে কখনো নৃ কখনো হরিণ


নৃ থেকে নৃতত্ত্বে যেও না প্লিজ


প্রাচীন নাচঘর কিংবা


নৃত্যপটীয়সীর ঈপ্সিত আঙুলের বরাভয়


আসলে মরফিমে কয়েক রতি আফিম মিশে গেলে


প্রতিষ্ঠানে বেজে ওঠে


তুমুল দুন্দুভি


মঞ্চ


আলো


জয়ডঙ্কা


ইত্যাদি


প্রভৃতি




যবনিকাপাতের আগে দুএকটা দৃশ্যান্তরঃ-



১। যেসব প্রেক্ষাপটে প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছিল তাদের পাদদেশ এখন বিষণ্ণ


২। নিমগ্ন উড়ালপুলের সময় সংক্ষেপ নিয়ে সঠিক মাপের বাক্যবিনিময়


৩। যোগাসনের যোগবিয়োগ


৪। তুঁহু ও দুঁহু মিলে ভজনান্তর



দীয়তাং ভুজ্যতাং এখনি খারিজ করতে পারে সমস্ত উপপাদ্য


প্রমাণ মাপের দেখনহাসি হেরফের হলেই


টলমল করে ওঠে মাথা মস্তিষ্ক



এবংবিধ সময়েরা যখন অসময়ের বেড়া দিচ্ছে


তুমি বোনভোজনের প্রতীতি নিয়ে


আমি প্রসবকালীন তীব্রতায় প্রাণায়ামে নামছি


জারজ পঙ্‌ক্তিসকল জড়িয়ে যাচ্ছে আঙুলে



যে স পেন্ডুলাম সম্ভাব্য তরঙ্গদৈর্ঘ্য দাখিল করেছিল


সেখানে দাতব্য খুলে দিলে


দাফন যোগ্যতায় নেচে ওঠে প্রাণীসকল


যোনিমুখ চুঁইয়ে নেমে আসে রজোগুণ


তমোগুণে যতটা সাজ বা সজ্জা দেখো


তামসেও ততটাই আঙুললেখা



বলো


এমন আঙুলে কি আগুন সম্ভব




Wednesday, June 8, 2011



আমরা সেমিটারি ঘুরে ঘুরে দেখি , নিজেদের নিন্দামন্দ করি , অপরিমিত বলে , তোতলা বলে
সারি সারি এপিটাফ , মনে হয় কবর মাত্রই জীবিতের
তির তির কাঁপছে তার কম্পাসপূর্ব ডক
ডকপূর্ব জ্যোতিষী । কারো জন্য নয় , রেলের ধারে যে বৃষ্টিটা থাকতেই হত
দেখো তার দীর্ঘ আলুলায়িত লোহা – এই লাইন সামনে বেঁকে পাতালে ঢুকেছে
সেতু আর সুড়ঙ্গের মাঝে
কবে নদী কোথাও নদীতে

গত সপ্তায় ছুরি কিনেছি ,
তারপর থেকে নরোম করে যাচ্ছি আলোয়ান , অনেক বোঝাচ্ছি – অন্তত কিছু মিথ ফেরানো দরকার
ইস্পাতের রোধ , মাংসের রোধ – সমস্ত দেখবো চোখ খুলে
ফিরে আসবো –

এই কোথাও-কবের মোহনাই কেন গল্প হয় , কেন ওদের বাদ দিলে থাকে শুধু চোখ আঁকার ব্রেইল বর্ণনা
পুলের নিচে পুলের উল্টানো ছায়া, পাপড়ি , কাজল টানা ঢেউ
জলজ লতাগুলো পরস্পর দৃষ্টি গোপন করে রাখে
মনগড়ে মিলিয়ে নেয়
যেই শত শত আচমকার দেখা মিলছেনা – কৌতুহল চেপে রাখছি অনুমানে
অথচ কত কিছু বলতে চাই

“কাব্যের বানোয়াট কীভাবে কবিতা আটকে রাখে !
বার বার ভুলে যাচ্ছো আসনের প্রয়োজনও উপলক্ষ কেবল ;
ও তো খুব লাজুক ; শুরুতে কিছুই বলে না। শুধু সূক্ষ্ম একটা কল্পনা ঢুকিয়ে দেয় মাথার ভিতর
যেহেতু পাপ মাত্রই মূল্যচিন্তা , তুমি অনবরত তৈরি করে যাও নিজস্ব জটিল মেঘ দেখা
যা আছে তা এমনি হয়ে আছে
তবু এই বোবা রোগ
হাঁসের দিকে তাকিয়ে হাঁস দেখছো না , দেখছো সবুজ
সবুজও আসলে না , দেখছো দক্ষিণের ক্রুশতারায় তিনদিন ঝুলে থাকলো ডিসেম্বরের সূর্য
তারপর এলো পুনরুত্থান
পাখিগুলো একটু একটু করে দীর্ঘ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিলো ”

আবার সেই বোকা ।
আমরা হাসি , নিজেদের তিরস্কার করি।
কী এক তন্তু তখন থেকে হাওয়ায় ভাসছে , এমনি ভাসছে। আর কিছু না

Saturday, June 4, 2011

CC prose hoilo ki ?

শ্লীল/অশ্লীল, নান্দনিকতা, স্টিরিওটাইপ, ভূকাব্যিকতা:

শিরোনামে, গেঁটে-বাতও জুড়বো ভেবেছিলাম, সামলে নিলুম । ভেবেছিলাম একটা নিউট্রাল জায়গা থেকে শুরু করব – জাফর (বাহাদুর শাহ) বা গালিব (আসাদুল্লা খান) – মানে এর চেয়ে নিউট্রালি ভালো লাগার জায়গা বাঙ্গালির আর এক ঠাঁই – রবীন্দ্রনাথ, তা তিনিও আসবেন, ঘুরে যাবেন । প্রথমে কন্ট্রোভার্সিটি থেকেই শুরু হোক । একটা কবিতা – অবধারিত ভাবে পানু’র লেখা ।

হে মস্ত ও দুলন্ত শহর
কখনো ভাবিনি আগে
প্রকৃত ভোরের বেলা
শুধু ভোর বেঁচে থাকে
মানুষের মাথার ভেতর

ছেলেটি সাধারণ দেখতে, মেয়েটিও
মাঝখানে অনিশ্চিত ঘুরে বেড়াচ্ছিল – ভালোবাসা
মেয়েটি বলছিল – যদি কোন ঈশ্বর থাকে, তার বাস নির্ঘাত কোন শরীরের
অন্তঃস্থলে নয় – দুজনের মাঝের ভরাট শুন্যতায়

শুন্যতায় কে থাকে ? কার স্যাক্সোফোন
বেসমেন্টের জানলার ফাঁক গলে
তাজা রসুণ রুটির গন্ধ
ছেলেটি ও মেয়েটি এক পাক নেচে নিচ্ছে
ছেলেটি শুতে চেয়েছিল, মেয়েটি চায়নি
কামনা নিপাট ছিল – তবু
আমরা ভাবছিলাম,
ভাল হত যদি ওরা চুদত
তীব্র ও অনুকম্পাহীন
ভাল হত যদি ওরা চুদত
ঘরোয়া ও লাম্পট্যময়

আসলে ঝাঁপ দুরকম হয়
দৃষ্টির সামনে ও পিছনে
বৃষ্টি হয়নি
জলের গাড়ি ফুটপাথ ধুয়ে চলে গেছে
আমাদের প্রত্যেকের সামনে একটি স্টেশান চত্বর
মৃদু ও সবুজ ছাদ
লাল ও নিষেধী দেয়াল দরোজা

ফাঁদের মধ্যে কেবল আরো একটি ফাঁদ – এই বুনোট
আমরা যারা শুধুমাত্র একটি ঝাঁপের জন্য প্রস্তুত হই
ঘাড় গুঁজে টিউশানি পড়ি, অভিধান খুলে বার বার
ধাতস্থ হই – আর যাই হোক
ঝাঁপ শব্দটির নীচে পাতা অন্ধকার
অবিকল আগের মতন প্রগাঢ় ও প্রতিশ্রুতিময়

আঁতকে উঠে বন্ধ করে দেবার আগে, পুরোটা শুনতে জাস্ট একটা অনুরোধ করব, মাউস আপনার হাতে । ২০০৭-এর মাঝামাঝি পানু’র লেখা বন্ধ হয়ে যায় – রাইটার্স ব্লক, (মহাকরণের সাথে সম্পর্ক নেই) । হতাশ পানু নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে । লেখার জগত থেকে, বন্ধু বান্ধব থেকে । একদিন রাতে “বিফোর সানরাইজ” বলে একটা ইংরেজী সিনেমা দেখতে দেখতে লেখাটি আসে । পানু তার প্রিয় মঞ্চে লেখাটি তৎক্ষণাৎ শেয়ার করে । লেখাটি পাতে পড়তে না পড়তে জনগণ আঁতকে ওঠেন (অনুমান) ও প্রতিবাদে ফেটে পড়েন (প্রত্যক্ষ) – ছি ! ছি ছি ! লজ্জা করে না, শুয়োরের বাচ্চা ! মঞ্চ কলুষিত করতে এসেছেন, রাস্তার ভাষা নিয়ে রাস্তায় যান ইত্যাদি... প্রভৃতি ... কেউ কেউ মৃদু তিরষ্কার করেন এত সুন্দর এই লাইনগুলো, এর মাঝে একটা এরকম শব্দ ! এ-কী রুচি ?
বন্ধুরাও আসেন । শ্লীল। অশ্লীল নিয়ে এক তুলকালাম হয় । পানু কোন তর্ক না করে, মাথা নীচু ক’রে সরে পড়ে । পানু-কে জিগ্যেস করলাম -- কী পানু, উদ্দেশ্য কি ছিল ? বোম ফাটানো ? না-কী বহুদিন পিঠ সুড়সুড় । পানু বলল-- কোনটাই নয়, জাস্ট ওর থেকে
অ্যাপ্রপ্রিয়েট কোন শব্দ পাইনি । এক রাত্রে দুটি ছেলে মেয়ের সাক্ষাৎ, আলাপ, আকর্ষণ, সান্নিধ্য – পরের দিন সকালে দুজনেই চলে যাবে নিজের নিজের জায়গায় – পানু বলল ওরা চাইছিলো কিন্তু শারীরিক হতে পারছিল না – আমার মনে হচ্ছিল ওরা যদি একবার শুয়ে পড়ে তাহলে হয়ত দুটি তরুণ তরুণীর দীর্ঘ ভবিষ্যতের কোন যন্ত্রণা থাকবে না – দে মে গেট ওভার ইচ আদার অ্যান্ড মুভ অন । এত সংক্ষিপ্ত সময়, রাত শেষ হয়ে আসছে এই অবস্থায় যে কোন বিকল্প শব্দ – করতো বা শুতো (অনিশ্চিত যা বহু ক্রিয়াকে মীন করতে পারে), রমণ, গমণ, ভালোবাসাবাসি (এর সাথে “করা/ করতো” কে রেখে প্রলম্বিত করা), খাপ খায় না বলে মনে হয়েছিল । একমাত্র “চুদতো”-ই এই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও অ্যাপ্ট । তো এখানে রুচি ম্যাটার করেনি বররুচিও নয় ।

প্রশ্ন হলো জনগণের কেন এই ইনহিবিশান ? (জীবনে ছেড়েই দিন) গল্পে, কবিতায়, সাহিত্যে পরকীয়া (বিবাহিত পিতৃবন্ধু কাকুর সাথে মনুমেন্টের মাথায় উঠে প্রেম করলেও অ্যাওয়ার্ড মেলে) বহুদিন বাঙালি ধরেছে, মরালিটির তোয়াক্কা নেই – তো মানুষ পরস্ত্রীকে রমণ, গমণ, প্রবেশ সব করতে পারে, কথ্য ভাষায় সমস্ত কিছু বলতে পারে আর নিজের বৌয়ের সাথে লিখিত ভাবে চুদতে পারবে না ? কেন এই ইনহিবিশান ? কেন এই কথ্য আর লিখিতের বিভেদ ?

পানু বিস্তর গবেষণা করিল – জ্ঞানী, গুণীর লেখা পড়ে বললো – বাঙালি তথা ভারতবাসীর মহারাণী ভিক্টোরিয়া নির্মিত মরাল কোড অফ কন্ডাক্ট (চন্ডীদাস/ ভারতচন্দ্র আপনারা মশাই যা-তা, কালিদাস তো অকথ্য – পানু অপেক্ষা পানু), আর বাঙ্গালির ক্ষেত্রে রাবীন্দ্রিক ভাষার চাপে, হুতোম, ত্রৈলোক্যনাথের (মুখোপাধ্যায়) ভাষার অপমৃত্যু – যদ্যপি অতিমানব রবীন্দ্রনাথ নিজের ভাষাটি নিজের লেখার জন্যই নির্মাণ করেছিলেন এবং মহীরূহ মাফিক অনুদার ছিলেন না । ত্রৈলোক্যনাথের ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া পরশুরামের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন – হুতোমেও তাঁর শ্রদ্ধা ছিল । বাঙালি (পড়ুন আকাদেমি) রবীন্দ্রনাথ কে চিনলো না, সে নোবেল চেনে, তদুপরি বেল চেনে – ফলে কোন তলায় সুবিধে ... ইত্যাদী, প্রভৃতি...। আর এখন তো আনন্দ হি আনন্দ – সেখানে যা হবে তাই রীতি, তাই গীতি – পড়তে হয়, না পড়লে বিলা ! সেন্স অফ অ্যাস্থেটিকস পুরোপুরি বানিজ্য নির্ভর । প্রমাণ চান ? বকফুল উৎপাদন শুরু করুন, প্লেটে বকফুল, শ্লেটে বকফুল, তারায় তারায় বকফুল, জলসায় বকফুল, খোঁপায় বকফুল, ফ্লেবারে বকফুল – বকফুল কোম্পানি পিভিটি লিমিঃ, ডজন খানেক সাহিত্যিক ভাড়া করুন, রাজনৈতিক নেতাদের বকফুল খাওয়ান ( সঠিক মুদ্রায়) দশ বছরে লোকে বলবে – আহা বকফুলের মত গাল, বকফুলের মত চোখ, বকফুলের মত গলা ...

মানুষ ভয় পায় আইসোলেশান, আইসোলেশান নিরাপত্তায় আঘাত করে । নান্দনিকতার কোন সার্বজনীন সংস্করণ হওয়ার কথা তো ছিলো না । সে তো সাব্জেক্টিভ, তবু কেন সে সার্বজনীন ঐক্যের ধার ধারে ? বাণিজ্য ।

তো এইবার আসা যাক নিউট্রাল জোনে – অনুবাদ দিয়ে শুরু করা যাক – কারণ, অনুবাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য আক্ষরিক ভাবে অবজেক্টিভ প্রক্রিয়ায় একটি লেখার ভাষান্তর । কিন্তু সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের ভাষা আলাদা ! কেলোয় ফরসা ! পানু স্কুলে থাকতে একদা বাহাদুর শাহ জাফর অনুবাদ করেছে । এখন পানু পাড়ায় দাদা, মাথাটি একিরকম থাকলেও পানু এখন মাথা খাটায় না, মগজবাজি / মগজমারী করে । পানুর ভাষা এখন বুলি, তার পারমানেন্ট ঠিকানা পতলি গলি -- তো পানু’কে বললাম আর একবার পিছনে না তাকিয়ে অনুবাদ কর । তো পানু, ছাক্কা ৪৫ মিনিট ধরে লিখে কাগজ দিলো ।

বাহাদুর শাহ জাফর / ন কিসী কী আঁখ কা নুর হুঁ (ওরিজিনাল)

ন কিসি কী আঁখ কা নুর হুঁ, ন কিসি কে দিল কা করার হুঁ,
ন কিসি কে কাম আ সকে, ম্যয় ওহ এক মুশথ-এ-গুবার হুঁ ।

ম্যয় নহীঁ হুঁ নগমাঁ-এ জাঁ-ফিজা, কোই সুন কে মুঝ কো করে গা কেয়া ?
ম্যয় বড়ে বিরুগ কী হুঁ সদা, কিসি দিল-জলে কী পুকার হুঁ

মেরা রঙ রূপ বিগড় গ্যয়া, মেরা ইয়ার মুঝ সে বিছড় গ্যয়া,
জো চমন খিজাঁ সে উজড় গ্যয়া, ম্যয় উসি কী ফসল-এ-বাহার হুঁ ।

ন তো ম্যয় কিসী কা হবিব হুঁ, ন তো ম্যয় কিসী কা রকীব হুঁ,
জো বিগড় গ্যয়া ওহ নসীব হুঁ, জো উজড় গ্যয়া ওহ দায়র হুঁ ।

হম পর ফাতেহা কোই আয়ে কিঁউ, কোই চার ফুল ছিড়ায়ে কিঁউ ?
জাফর, আশক কোই বহায়ে কিঁউ, কে ম্যয় বেকসী কা মজার হুঁ ।


পানুর অনুবাদ (সত্যযুগ)

কারো আঁখিপাতে জ্যোতি নই আমি, কোনো হৃদয়ের শান্তিবাসর,
কারো প্রয়োজনে আসি নাই কাজে, শুধু এক মুঠি ধুলির চাদর ।

কোনো অপরূপ গুঞ্জনরেশ, নই আমি নই, কী হবে শুনিয়া ?
আমি শুধু এক ক্রমার্তনাদ, প্রসবিত হই কলিজা পুড়িয়া ।

আনন জ্যোতি, প্রিয়মুখ যত, আঙ্গন ছাড়ি হারায়ে গিয়াছে,
আমি ঝরাফুল বসন্ত বনে, যে বনে বাহার বিদায় নিয়াছে ।

কোন হৃদয়ের হৃদয় নই গো, কোন শত্রর দুশমন ঘোর,
আমি বিমূর্ত দগ্ধভাগ্য, স্পন্দনহীন, মৃত সরোবর ।

কেউ কেন দিবে দু’টি ঝরাফুল, অশ্রু অর্ঘ্য আমার শিয়রে,
অসহায়তার ইতিহাস হয়ে, জাফর মুছিবে কালপ্রান্তরে ।


পানুর অনুবাদ (ঘোরকলিযুগ)

কারোর চোখের রোশনি নই বে
বুকের শান্তি
কারোর কাজে লাগিনি , শালার
ধুলোর মুঠঠি

জান ভ’রে দেয়া মিউজিক নই
শুনবে কে বাপ !
ফাঁকা গাম্বাট আওয়াজ, পোড়া
কলজের ডাক

থোবড়ার ফ্রেশ, ইয়ারের ফেস
লোপাট হয়েছে
শুখা ফুল আমি, ফাঁকা বাগানের
ইয়ের নীচে

কোনো হারামীর দুশমন নই,
জিগরি ইয়ার
ফুলস্টীম-- পোড়া কপাল, শুকনো
নদীয়া’র পার

কোন রঙ্গিলি ফাতেহা পড়বে
আমার কবরে ?
ফুল দেবে শালা জাফরের, ক’টা
হোপলেস হাড়ে ?


(দ্রষ্টব্য ; লাস্ট দু’লাইনে পানু “ এই হোপলেস গাঁড়ে” লিখেছিল, আমি “হাড়ে” করলাম, যদিও পানুর বর্তমান ভোক্যাবে হাড্ডি আছে, হাড় নাই – নান্দনিকতার খাতিরে, মানে, আত্মীয় স্বজনের নান্দনিক ভ্রুকুটির কোপে, রবীন্দ্রনাথকেও এককালে “ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো / আমার বুকের বসন খানি” কেটে “মুখের আঁচল খানি” বসাতে হয়, যদ্যপি মুখে আঁচল চাপা দিয়ে মহিলারা হাসাহাসি করেন, অ্যাস সাচ মুখে আঁচল থাকে না, থাকলেও সেটা ন্যাচারাল পোজ নয়, তদুপরি, হাতে ধরে থাকার জন্য ওড়া বেশ দুষ্কর – বুকের বসন সেখানে উড়ে যাওয়া— বলাকার মত অনায়াস ঝামেলাবিহীন । তথাপি... ইত্যাদি, প্রভৃতি...)

পাঠক, আর একবার রেগে ওঠার আগে মনে করিয়ে দিই –অশ্রদ্ধা উদ্দেশ্য নয়, জাস্ট ওয়ান্ট টু মেক আ পয়েন্ট ।

এবার আরেকটা সিনারিও – এবার গালিব – গদাই, কলকাতার বিজয়গড় অঞ্চলে থাকেন । সবে এক জেনারেশান বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, গদাইয়ের পাড়া পড়শী, বন্ধু, বান্ধব যে ভাষায় কথা বলেন সে ভাষা এখনো বাংলাদেশের ছোঁয়া বজায় রেখেছে –

গালিব ( ওরিজিনাল)

হরেক বাত পে কহতে হো তুম
কে তু কেয়া হ্যায় ?
তুমহি কহো --
ইয়ে অন্দাজ-এ-গুফতগু কেয়া হ্যায়

রগোঁ মে দৌড়তে ফিরনে কি
হম নহী কায়ল
জব আখোঁ সে ন টপকা তো ফির
লহু কেয়া হ্যায়

অনুবাদ (গদাই লস্কর)

হগল কথায় জিগাও – তুমি কে-ডা
তুমিই ক’ও
এ কী ধরণ কথার ?

শিরার মইদ্যে হুলুস্থুলুস-- দিগবিদিকা সোটে
(তারে) খুন কই না মোটে
চক্ষু দিয়া না’ই যদি বয়
রক্ত সে-ডা ?

--
কী পানুর কলিযুগের অনুবাদ পড়ে ব্লাড বয়েলিং, আর গদাইয়ের অনুবাদ পড়ে কমিক কমিক ফূর্তি হচ্ছে তো ? জজসায়েব – দিস ইজ স্টিরিওটাইপ । ভাষার নয়, মাথার । রকের ভাষায় বাওয়াল হবে, তার নান্দনিকতা থাকার অধিকার নেই । ভানু বন্দোপাধ্যায়ের সুবাদে বাংলাদেশের কথ্য ভাষা কমিক ছাড়া আর কিছু নয় । পুরুলিয়া / বাঁকুড়ার ভাষায় বড়জোর গলা কাঁপিয়ে আবৃত্তি করার মত মানুষের দূরবস্থা, দৈন্যর প্রকাশ সম্ভব । ইন্টেলেকচুয়াল / নান্দনিক কিছু লিখিত ভাবে রাবীন্দ্রিক বাংলা ছাড়া মহাপাপ ।

এবার সত্য নান্দনিক টেরিটোরিতে একটু ঢুঁ মারা যাক । পানুর আলম বালম ছেড়ে, ভূকাব্যিকতায় । সেই ছোটবেলায় পড়া – পশুকে বন থেকে তুলে আনা যায় কিন্তু তার মন থেকে বন তুলে ফেলা যায় না । রবীন্দ্রনাথ, জীবনে ৫০ বার অন্তত তুষারপাত দেখেছেন, ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেক দেশে কিন্তু তাঁর কোন কবিতায় সেই সব দেশের সেই সব অনুষঙ্গের কোন ছোঁয়া নেই, সেখানে শুধুই বাংলার মুখ – এ অভিযোগ আমার নয়, অকুন্ঠ রবীন্দ্রানুরাগী সৈয়দ মুজতবা আলি সাহেবের । আমার ব্যক্তিগত মতে, যদি রবীন্দ্রনাথ তা করতেন তাহলে হয়তো আরো কিছু অনন্য সৃষ্টি বাংলাভাষায় হতে পারত (আমার ব্যক্তিগত মতে বাংলাভাষায় আজো রবীন্দ্রনাথ সর্বাপেক্ষা মেধা/ মণীষার কবি – তাঁর ভাষা প্রতিষ্ঠিত হলেও রবীন্দ্রোত্তর কবিতায় তাঁর মননের উত্তরাধিকার খুব বিক্ষিপ্ত ভাবে কদাচিৎ চোখে পড়ে – এ দুঃখ যাবার নয় ) । তো, অমিয় চক্রবর্তী শুরু করলেন সেই ধারা (অমিয় চক্রবর্তী আজো সেই হাতে গোনা প্রাসঙ্গিক কবিদের একজন, যিনি কিছুটা হলেও উত্তর রাবীন্দ্রিক কবিতায় স্বতন্ত্র মনন ও দর্শনের দাবী মেটাতে সক্ষম বলে মনে হয় ) ।

“সাক্ষাৎ সন্ধান এই পেয়েছো কি ৩-টে ২৫-এ ?
বিকেলের উইলো-বনে রেড অ্যারো ট্রেনের হুইসিল
শব্দশেষ ছুঁচে গাঁথে দূর শুন্যে দ্রুত ধোঁয়া নীল ;
মার্কিন ডাঙার বুকে ঝোড়ো অবসান গেল মিশে ।।
অবসান গেল মিশে ।।

(ওক্লাহোমা; অমিয় চক্রবর্তী)

একটা রেশ থেকে গেলেও এই প্রথম পর্যায়ের ডায়াস্পোরিক ভূকাব্যিকতা ভ্রমণের ছোঁয়া মুক্ত নয় । এক ট্যুরিস্টের জবানী বলে মনে হতেও পারে ।

আর একটা কবিতা পড়ি –

বন (আর্যনীল মুখোপাধ্যায়)

জুতোর দোকানের সামনেই বনের বর্ণনা জুতো আঁটতে আঁটতে
আমাদের পাহাড়ী সেলুন থেকে চুল কাটার মাঝখানেও নিচের বনানী
বাড়ীর পেছনে ও জন্মদিনে বন, বিবাহবার্ষিকীতেও
বন থেকে বেরুলো ছেলে
বনের ছাতি ফাটিয়ে ফেলে

বিমর্ষতা কাটানোর যেখানে একমাত্র বেঞ্চ
সেই চুড়ো থেকেও নিচে নদীর দুপাশে বনমাথা
ভেবে দেখেছি কতগুলো বনের রূপক !

হাঁটতে হাঁটতে পড়লো “অ্যান্ডারসন হাঁটাপথ”
লাল শেয়ালটা হঠাৎ স্থাণুবৎ জুড়ে চোখের মণি
তার সাথে চোখের চেনাচিনিতে নতুন ভাষা হলো
জিম শুনে আকর্ণ হাসে, আহ্লাদ করে
এবছর তাহলে কম হরিণেরা লাল শেয়ালের কারণেই
ভালো হলো ! ওর বাগান জিম সদ্য পয়েন্সেটিয়া লাগিয়েছে

প্রথম দু’স্তবক বর্ণনার “ভেবে দেখেছি কতগুলো বনের রূপক ! “ বাদ দিলে । বাঙালি সত্তাও পূরোদস্তুর –
বন থেকে বেরুলো ছেলে
বনের ছাতি ফাটিয়ে ফেলে

তাই টুরিস্টের কলমে বলে মনে হওয়াও থেকে যায় । প্রকৃত ভূকাব্যিকতা ধরা পড়ে শেষ স্তবকে, বাঙ্গালির চির নান্দনিক হরিণ, আদ্যন্ত রোমান্টিকতার হরিণ – তার সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোন খেদ নেই বলে । বাঙ্গালির হরিণ তো আর নুইসেন্স নয় ।

কাল রাতে আর্যনীলের সাথে কথা হলো – ও বলল এরকম তো ভেবে লিখিনি । অটোমেটিক এসেছিল । এই অটোমেটিক চলে আসাই স্বতস্ফূর্ত নান্দনিক বদলের, পালা বদলের । ভুলবেন না সেখানে এক আদ্যন্ত বাঙালি বেড়াও রয়েছে “ বন থেকে বেরুলো ছেলে/ বনের ছাতি ফাটিয়ে ফেলে ।

পুনশ্চ ; কিছুক্ষন আগে অর্ঘ্য কমেন্ট করলো -- আর ভূকাব্যিকতার পাঠক বাঙলায় কয়টা তৈরি হতে পেরেছে ? বাঙলা কবিতা পড়লেই আমাদের সাহিত্য প্রতিবেদকরা এবং মহামান্য আলোচকেরা সবার আগের নিজেদের প্রশ্ন করেন - এই কবিতা বাঙ্গালীর আর্থসামাজিক অবস্থা, বাঙালীত্ব, লোকসাহিত্য ইত্যাদি ইত্যাদির কোন দিক উপস্থাপন করছে? এই কবিতা কি 'আমাদের' কবিতা? - "জিওপোয়েট্রি" ওইখানেই বাদ ।

(থ্যাঙ্ক ইউ অর্ঘ্য – এই পয়েন্ট-টা লেখার আগে মাথায় ছিল না । )

পানুর মনে হলো – হায় কবিতা – তাহলে বাঙ্গালীর নিজস্ব কুয়োর দলিল ছাড়া, ব্যবহারিক জীবনের উপযোগীতা ছাড়া তুমি নেই ।

“জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি
জুটে যায় যদি দুইটি পয়সা
ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী”

(হজরত মুহম্মদের বয়ান ; সত্যেন দত্তর তর্জমায়)

ব্যবহারিক বাঙালি, ফুলটি কোন ফুল বাংলার ফুল কি-না, সেই নিয়ে চিন্তায় থাকতে পারেন । আবার শেষ লাইনে তবে “বাধাকপি কিনো, হে অনুরাগী” বসিয়ে নিতে পারেন, চিবোবার জন্য ঠিক, পুষ্টিকর ও প্রচুর গ্যাসবর্ধক । তবে যে তরি তরকারি পাতে পড়ে স্যার একবার অভিধান খুলে দেখে নিয়েন তা দেশীয় কি-না ! যা শুনেছি, আলু বেগুন সবই বিদেশী । জাত না যায় !

যাই হোক বাঙ্গালির ব্যবহারিক/ বাণিজ্যিক মূল্য ছাড়া তাহলে নান্দনিকতাও হাওয়া । নন্দনতত্ব গরুর খাদ্য মাত্র । গরু, গোবর ও ঘুঁটে এই তিন বাঙ্গালির নিজস্ব দেশীয় । বেশ পরের বার মরোপোয়েটিক্স, গোবর ও ঘুঁটে নিয়ে আলোচনা করা যাবে ।

Friday, June 3, 2011

lekha

CCP ki-naa jaani naa... bracket-er part ki-naa taao... Jadio bracket-er resh ekhono aachhe... taar thekei lekhaa...

স্পৃহা

নিজের কাছেই ফিরে আসি
ঘাড় গুঁজে বসে আছে দিশা ও বিদিশা
খুব রাত্রি হয়
ঝিম ধ’রে গোটানো কপাটে

আঙ্গুল থেকে ছাড়িয়ে আনি জড়তা
শাদা প্লেটে রাখি
মূল্যবান করি

ভোর হয়
আলো ছপছপ ক’রে ঢোকে আমার প্রতিবিম্ব
তার প্রকাশ ভঙ্গিমা
ভাবি কোথায় লেগেছে অসামান্য আলস্যঋতু

যাবতীয় মৌল, মৌলের অকারণগুলি
ফিরে এল
তবু মায়াটি এল না

দু’একটা দেখার মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকে
দু’একটা শোনার ভেতর চলে যাওয়ার শব্দ

প্রতিধবনির মধ্যে ঢুকে যাই
বেজে উঠি ফাঁকা মানুষের নিরালম্ব স্পৃহা
‍‍‍

নুন

এরপর দৃশ্য বন্ধ করে
ঢুকে পড়ি পাতার ভেতর
রিপু বেয়ে আন্দাজ ওঠে

দেখার ভেতর সেভাবে থাকার কথা ছিলো না
চেনার মত শুকনো স্বল্পতা
ঘুরে বসাবার মত কোল

খুব দূরে চলে গেছে যাওয়া
যাওয়ার হাত ধরে পরিষ্কার চলে গেছে মন
ভাবনার চোখে অন্য কে আর তেমন ভাব

কুলিয়ে ওঠার মত নুন
‍‍‍

মহড়া

ব্যাখ্যার মধ্যে সুস্থতা নামিয়ে রাখো
ব্যতিক্রম একটা জানলা মাত্র হয়ে ওঠে
কাল ফুল ফুটেছিল
তাই আজ বৃষ্টির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাগান
যেন এই এক সার্থক একঘেয়েমি
এই এক বানচাল হয়ে ওঠা প্রান্ত

ওভাবে বসে থেকোনা
সন্ধান তোমার মধ্যে দীর্ঘ এক আনচান হয়ে উঠবে
ব্যাখ্যারাও বিশ্লেষিত হতে চাইবে
অবিশ্বাসী মুখ পর্যন্ত
দৌড়ে যাবে
বিশ্বাসযোগ্য হাসি

বেডরুমে একটা ভোর হচ্ছে
হলুদ ও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে ছায়া
স্বচ্ছ হয়ে উঠছে পূর্ণতার মহড়া

Wednesday, April 20, 2011

স্মৃতিলেখা



ব্র্যাকেট-শহর ১০

ফুল শেষ হলে তবেই শিমুলে পাতা
সংশ্লিষ্ট সালোক
এত ঘন এত সন্নিবিষ্ট
কোন আবেশ বিশ্বাস করতে পারছে না
আবেশ একটা শব্দ মাত্র

সমস্ত জড়তা নিয়ে আছড়ে উঠছে
কাঁপবে না
কে এমন প্রামাণ্য ভুবন
কে এমন লোহার লৌহ

দুঃখ হয়
ল্যাংড়া চড়াই ছাড়া
কোন পাখিই আর হার্দিক হবে না
ভাল লাগে
ডানার চেয়েও এই যে প্রবল
ঠোঁটের মাকড়

স্বাভাবিক প্রেরণাগুলোও আজ ক্ষমার অযোগ্য

হয়ে ওঠার গায়ে
ধাপ দুএক মাত্র সিঁড়ি
ভাল লাগে
এইটুকু সম্পন্ন ধরে
আমাদের নেমে আসা
তোমার সামান্য আলগোছ

পরিসীমার বাইরের প্রচলন
কৌপীন হয়ে যেন তার লেশ
অন্ধকারের কাছে আঁধারের তাৎপর্যগুলি
ফিরিয়ে নিচ্ছে অভিধা
ফিরিয়ে নিচ্ছে সমাধিফলক
কত বাহ্য আর কত সামাজিক জনপ্রিয়
হয়ে উঠবে কবিতা
বারবার ব্যবহৃত রজনীপাখি

যেন সেই দুটো একটা দেখা
যেন সেই কাঠের মেঝের মত
দুরুস্ত ও ভব্য ঘরোয়া
ব্যবহারযোগ্য অসুখ
কলমের ছায়া যার ওপর
থমকে দাঁড়ায় মুহূর্ত কয়েক
পরের লাইনে চুঁইয়ে পড়তে ইতঃস্তত করে
নিহিত রশ্মির কাছে অনুকরণীয়
এক যথাসম্ভব হয়ে ওঠে

ভাবো কতটুকু অনুনয়
গিয়েছে গাছের কাছে
কতটুকু নীরবারিজল
এমনকী সহজাত আবহাওয়া নিয়ে
খাবার টেবিলে ন্যস্ত মোমবাতি

ফিরে তাকানো খাবারের গুঁড়ো
এমন এগিয়ে আসছে শ্বাসনালীর দিকে
যেন দুএকটা দ্বিরুক্তি
আর কোন অর্থ রাখে না

সব্যর হয়ে পোস্ট করে দিলাম।

Tuesday, April 5, 2011

bracket 9

অর্থের্ বিনিমযে সমস্ত বিকৃতি সযে নেবে
তবেই না ভাষা
এমন কী স্ত্রীরোগ, এনিমা
লভ্য ও বিতরণীয নিরাময্

যেমন প্রামাণ্য গর্তগুলো রাস্তা
ঝাকাতে থাকলে
দু একটা অনুসরণযোগ্য উঠে আসে পথ‌
যে পথগুলো রোজ সম্পর্কের মধ্যে
নেমে যায
উত্কন্ঠার মধ্যে

নির্দিষ্ট কোন বিষযে পোউছে দেযার্ মত‌
আর্ কোন শব্দ পড়ে থাকে না
‍‍--
এরপর তুমিও অপারগ
হাসিমুখে খুলে দেখাবে অন্ত:সার
অস্বীকার পর্যন্ত দোউড়ে যাবে

হাসপাতালের আকাশও আজ নির্মল‌
যেন স্বচ্ছতার্ মধ্যে অনুভবগুলো
কলসপত্রী হযে আছে
খাপ পেতে আছে

যেন আকার্ বলতে কিছু নেই
নিরাকার বলে কেউ নেই
শুধু গ্রন্থি থেকে স্নাযু পর্যন্ত এক চলাচল‌

চলাচলের ওপর প্রকাশ উড়ছে
‍‍--
অপেক্ষা নিযে ভাবতে পার‌
সীমাবদ্ধতা নিযে ভাবার দরকার্ নেই
সে নিজেই নিজের তদারকীতে সক্ষম‌

যেমন লিঙ্গের কাঠামোর ভেতর‌
নমনীয হযে থাকে ধাতু
ওঠে
নামে
ভালবাসায পারঙ্গম হযে ওঠে

নির্ধারিত যদি পাই কোনো বা একটি দিন‌
সেও যেন প্রগলভ হয‌
জিভে সাপটে নেয কাটাগাছ‌
আর হিসহিস কথা ভরে দেয‌
কাটার অমনোযোগে

সন্দেহ নিযে ভাবতে পার‌
তার নবীকরণ‌ নিযে
দূরে বসে লক্ষ্য করতে পার‌
কী ভাবে চলত্শক্তি হারাচ্ছে ভাষা
শিহরণ কামড়ে ধরছে

Wednesday, March 30, 2011

Little Boy

২৩৫ এর কোমরবন্ধনী সত্ত্বেও কমতি ছিল তোমার ধারণশক্তি। দুলকি চালের এক ফোঁটা কণা ভেঙে দিল তোমার গুমর...



আর সেই শুরু হল


...........দৌড়


দৌড়


একটানা দৌড়


ক্ষয়ে যাওয়া ভর হিসেবে রাখলো তুমুল অন্তরাত্মা



কিন্তু আসরে নেমেই ধারাবাহিকের হাল খুলে দিল


ছোট্ট ছেলেটা


গলায় ঝোলানো সোনার জন্‌জীরে হাত রেখে


দৌড়তে দৌড়তে


নায়কশিমায়


মাশরুম মেঘের ভেতর তখন নাটক জমছে


লক্ষ্মণের শক্তিশেল



সুকুমার কোনো বৃত্তির নাম নয়


জানো


ট্রিনিটির জাদুকর বলাও কি যায়



Now I am become Death, the destroyer of the world



মায়াকুন্ডলী ঘুঙরু বাজিয়ে দিল ওপেনহাইমারের চোখে। উলকাঁটায় বোনা কালসুতোর ফাঁস কীর্তন গেয়ে উঠল। তুমি শুনতে পেলে না। কারণ তোমার মুখ ঘোরানো ছিল মৃত্যুর দিকে...



কালোহস্মি লোকক্ষয়কৃৎ প্রবৃদ্ধো...



হা হতোস্মি! এ কেলোকে চিনলে না তুমি। মহা যোগ করে দেখো অনন্ত বসে আছে ব্রহ্মান্ড হাতে...



কেশবতী গীতার বিনুনিতে মুখ রেখে বিনেতার ভূমিকা লিখছো


চুমু থেকে নীল ঠোঁট পেরোলে দেখতে পেতে


নীলকান্ত


শুধু কান্ত নয় অথবা শ্রীকান্ত


বিশ্বরূপের দলিল খুললেই


ডমরুর ডম ডম


আহা পেরোলো না পরীক্ষিতের স্নায়ুময় সেতু


ভুলেরও মাস্তুল ছিল


জানো


নিউরাল জালে


মেলেনি রসায়ন


Monday, March 28, 2011

ব্র্যাকেট ৮

তিনি বললেন -- লোক সংস্কৃতি হল সেই সংস্কৃতি যা মাটির কাছাকাছি, ফলে সাধারণ ভাবে নাগরিক নয় ।
আমি তেতলায় থাকি
আমি তো অলোক, প্রভু
আমার প্রত্যয়ের নাম অলোক বিশ্বাস
:-)
--------------------------------------------------------------
ভাষার যথার্থতা মেনে

লেখার আশ্বাসে লেখা পংক্তি
ভোজে ও পার্বণে
ভাবি— এক কোনদিন ইঁদুরকলের কথা
যে ইঁদুরের থেকে বিচ্যুত হয়ে আছে
অভাবে কাতর হয়ে আছে
অর্ধমনস্ক তার রুটি ও পরিক্রমা

ব্যাখ্যাতীত
বসে থাকে মতির আড়ালে
একটু একটু মাথা বাড়িয়ে
ফাঁদকে প্রলুব্ধ করে
তার বাঁচনভঙ্গী
অভাব ঢাকার মত পর্যাপ্ত প্রভাব

ব্যাটারিতে পাওয়া শান্ততা
অবিকল হয়ে আছে এক হপ্তা
এসময় আমি ক্ষমাকেও ক্ষমা করে দিতে
ইতস্তত করবো না
এমন আপ্রাণ কথা বল
যেন নির্জনতাও খাপ
খেয়ে যায়
সবটুকু
সবর্ণ দুধ
দুধের মৌলগুলি শাদা ও উন্মাদ হয়ে ওঠে
আমার মতই সুস্থ ও অবিচল হয়ে ওঠে

অনবরতে পাওয়া সুস্থতা
অবিকল হয়ে আছে এক হপ্তা
এসময় আমি ঘুণপোকাদেরও খোখলা করে দিতে
ইতস্তত করবো না
--
ঘোরের আড়ালে রেখে দিচ্ছ ঘড়ি
আর বলে উঠছ রাত বারোটার আগে
ফাটিয়ে বেরোতে পারবে না
রাস্তা
অন্যমনস্ক
তৃতীয় শুঁয়োপোকাটি
এই সময় সতর্কতা নিয়ে খেলা করে
আলগোছে কিঙ্কন বাজে
পাতার ভেতর বানচাল হয়ে ওঠে প্রকৃতি

এ সমস্তই এক ভুল প্রতীকের আত্মসমালোচনা
যে জানে ভাষার কোন যথার্থতা নেই
বারোটার পরে কোন একটা নেই
--

Wednesday, March 23, 2011

ওদের বন্ধুরা খরগোশের গর্ত নিয়ে ভাবে

বসার ঘরে সুড়ঙ্গের ছবি ,
ওদের বাগান ও ছুটির কথা বইয়ে আছে
ছোট ছোট মানে কষে নেয়া
তাই বিভ্রম,
উপাত্তের অভাব থেকে খারাপ দিকগুলো আলাদা করা যায়
বিভ্রম না থাকলে এইসব যন্ত্র মনে হবে

ওরা চুল আঁচড়ায় ,
আঁচ লাগিয়ে সোজা করে ,
আবেগ যে দীর্ঘ খুনের তালিকা – তাকে বয়ে বেড়ানো আর ধরে রাখা এক কথা নয়
পাড়ার মনযোগ এক দিকে মুছে আনার কৌশল
মিল আর মানের সুযোগ করে দেয়া ,
একটা সিঁথি কেটে দেয়া

* * *

সিঁথি রপ্ত করছি

ওরা আমার ঘুমন্ত জুলপি দ্যাখে জানালায়
ওরা আমার চাওয়া
অভ্যাস
বা গ্লিফ
স্থির মিশ্রকে, রপ্ত করছি এক পাড়া মনযোগ সরিয়ে – এই স্বপ্নদৃশ্য ওরা
যখন বাগানে মেঘ করছে
তুষার ঝরছে

ওদের বেড়াল ছানাগুলো সবচে আদুরে

* * *

মেলো ,
নিকেল ফেলে কান পাতো – চিরুনি কেনো চিরুনি ভাঙো
ওদের লিখলেই
কেন তুমি সেই একই দ্বিতচারী হবে

আমি ভাবছি হবেনা
আর বুনো খরগোশ দৌড়ে পালালো ,
ভাবছি – আর বোকা পিগিব্যাঙ্ক লিখো
বারের বারান্দায় আমাকে পিটিয়ে গেছে ভাল ভাল লোক
আমি একটা বেড়াল পুষতাম ,
পালাবো না , বড় করবো ওই নিকেল ,
তার বেড়া ও বাছাই –
ইকোমেলার আদুরে মেয়েটি স্কার্ফ খুলবে
একটি দুধসাদা সাপ জড়িয়ে নেবে কাঁধের উপর – আর যত এনকোডিং আছে

যেমন , কিছু যন্ত্রে মুক্তি লাগে , অর্থাৎ একটি সসীম কাঠামো –

টেবিলে তিনটি মার্বেল রাখা হলো
তাদের আলাদা আলাদা গন্ধের কোড দেয়া হলো
প্রতিটা সংখ্যার ছবি আঁকা হলো
ছবিগুলো নিজেদের মধ্যে একটা খেলা ভাবে– ওরা কখনো একত্র হবে না
যার যার হারিয়ে ফেলা খুঁজছে প্রত্যেকে
ওই ফেন্স আচঁড়ে দিতে হয়
টেনে আনতে হয় একটি যেকোনো awe ব্যবহৃত সংখ্যায়

Monday, March 14, 2011

ব্র্যাকেট ৭

ভাঙা আয়নায় শোধন সামগ্রী
চুমুর বিরোধাভাস
সেও এক গলি
যেখানে দমকল ঢোকে না
ফল মার্কেটের ভোঁতা হাওয়া
গাঁদাফুলও কাম্য কাম্য মনে হয়

এসময় বসময়
বসন্ত ধুঁয়াধার লাগে
রাত তিনটেয় ধড়ফড় করে উঠি,
এক বাঞ্চোত কোকিল আর এক হারামী
পিউকাহা
প্রেম ঢাউস হয়ে ওঠে
গুঙিয়ে ওঠে সিরাপগ্রন্থি

ওকে খানিকটা মন্দ করে দে মৃদু করে দে
--
তারপর শুধুই নির্মাণ হয়ে থেকে যায় দোতলার প্রেরণা আর বিলম্বিত ফল বসন্তে ঝরে । আমার সমস্ত অনুমান, পদ্ধতি, অজৈব টেক্সচার উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে । কোথাও সাঁতারপটু ভাষার শরীরে ঘাই মারে ডুবন্ত ভাষা ।

ফলের ভেতর স্তিমিত হয়ে আছে খুলে দেখানোর বীজ
বীজের ভেতর নস্ত্য এপ্রন
সতর্ক হয়ে ওঠা গোধূলি ও নিয়মিত
সাড়ে নটার পুল পারাপার

এই আমার অবিকল ভাষা-- যে ভাষায় আর্ট ও ইন্ডাস্ট্রি দু’ই শিল্প । দীর্ঘাকায় হয়ে ওঠে খনিজ বেগুন, বোঁটা ও সংলগ্ন কাঁটা, বিজন হয়ে ওঠে । পরিমাপগ্রস্ত হয়ে ওঠে ।

আমার কাল্পনিক হেতুর পাটায় নির্লিপ্ত হয়ে ওঠে দড়ি ও ওলন, অন্ধ কর্নি । ব্র্যাকেটশহর আমি ঠিক কোথায় গাঁথব এই নতি, নান্দনিক দোলনের আভা ! কোন শান্ত কঙ্ক্রীটে ধীর ও অনিবার্য হয়ে উঠবে সমস্ত আকস্মিকতার মূল্যবোধ, আমার হেরে যাওয়ার স্টাইল ।

--

ব্র্যাকেটশহরে
তামাশাপন্থী বাঘ আর তাঁর
পেডান্টিক নড়ন
বিশ্বাস ভাঙতে ভাঙতে পাথর
নিজেই হয়ে ওঠে বেলে ও হলুদ
সুক্ষ রন্ধ্রগুলো ভরে ওঠে কেতাবী গর্জনে
হলুদের পাশে বিস্মিত হয়ে আছে
বাকী যা হলুদ
বসেছে হলুদ বাঘ হলুদ খোঁপায়

আমার চোখের পাতা নড়ছে না

--
গাঢ় হয়ে উঠছে বৃষ্টি
অভ্যস্থ হয়ে উঠছে
ব্যর্থ হয়ে উঠছে

এ সমস্তই এক অসমাপ্ত বিছানার কথা
যে জানে গুছিয়ে তোলার মত হাত নেই
বৃষ্টির দিনে দরজায় অভ্রান্ত খটখট নেই
হস্তান্তর বলে কিছু নেই
আস্তিন আর তুরুপ এই সবই পলায়নবাদীদের নিজস্ব স্বান্তনা

দস্তানা কড়ায় ঝুলিয়ে
আঙ্গুলেরা তোয়ালে খুঁজছে
--
আমার প্রকাশভঙ্গীর মধ্য দিয়ে ঘরঘর করে যাচ্ছে
লম্বা মালগাড়ি
মালগাড়ির মধ্যে ভেসে যাচ্ছে তামাক ও কমলালেবুর নির্যাস
পরিত্যক্ত ছাউনিগুলো মাতাল হয়ে উঠছে
ধীর ও বিস্মিত প্রকাশ হয়ে উঠছে
এও এক অন্তর্বর্তী বারান্দার কথা
যে প্ররোচনা দেয় চলনসই বৃক্ষদের
বলে --এইবার চীয়ারবিথীকা হয়ে ওঠো
অনুপম পমপম

প্রার্থনা ও কুঠার ছাপিয়ে উঠছে কুকারের সিটী
হিংস্র হয়ে উঠছে কুমড়ো সেদ্ধ, মান কচু, উচ্ছে সেদ্ধ
--
মালগাড়ি ও রান্নাঘরের পর আবার
বৃষ্টিতে ফিরে আসি
এখন বৃষ্টি নেই
রোদ নেই
ভেজবার প্রশ্ন নেই
শুকিয়ে ওঠার প্রয়োজন নেই
যা নেই তাই চিহ্নক
চিহ্নিত বস্তুসমূহে
যার চওড়াবরণ বোঝা যায়
--
এ সমস্তই এক অসমাপ্ত কাচের জানলার কথা
যিনি তাঁর সমূদয় নিয়ে বিছানা হওয়ার
কথা ভাবেন ও ঘষটে ঘষটে
নিজেকে অনচ্ছ করে তোলেন

চিহ্নগুলি মাথা গলিয়ে দিচ্ছে অস্তিত্বে
তাদের পিঠের কাচ ডুকরে উঠছে
--

মিঃ বীন বললেন –Can you give shape to an idea unless it’s dead ?

চকিত অতিক্রমী যে আলো
সেই আলো তোমাকে দেখেনি ভালো করে
তোমার কাছের ধীর ও লেপ্টে থাকা আলো

সেই আলো বিপজ্জনক
ছায়া হাতে স্যাডিস্ট ভাস্কর হয়ে ওঠে

উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ঘাম গড়তে ভুলে যায়

এইসব কথা ডাঙার বিপক্ষে

ঢিল পড়া পুকুরের জলে ওঁত পেতে থাকেন পিকাসো
গতকাল
তাঁর সাথে কথা হয়েছিল
ধারণা নিয়ে
ধারণাপূর্ব অনুভূতি নিয়ে
লালাগ্রন্থি নিয়ে
যা তাজা রুটি বা বর্ষার আস্তাকুড়
যে কোন তীব্র গন্ধে প্রবাহিত হয়

--
তথাগত বললেন -- যে কোন বস্তুই একটি ঘণ ও আকরিক গুণ । এই গুণ রোপণ করো ধনুকে ও বন্দুকের ব্রীচে । এই গুণগান থেকে তীব্র ছুটে যাওয়া ভাব, যার গতি মিনিমাম সেকেন্ডে ৩৪৪ মিটার সেই হলো প্রকৃত শব্দভেদী । যা অর্থভেদেও সক্ষম । এই হলো বস্তুবাদের গোড়ার কথা ।
আমি বলতে পারিনি-- হে তথাগত, প্রভাবিত হওয়ার জন্য যে অন্তর্জাত নৈপুণ্য লাগে, আমি তা হারিয়ে ফেলেছি

সঙ্ঘবদ্ধ জলে
জলদলে

রাত্রি তিনটের পরে এগোতে রিফিউজ করেছে যে ঘড়িগুলি, সেই সব ঘড়ি আমার আত্মীয় ছিল । তারা বায়ু, সূর্য, বালু, ফুল ও জলের মত গতি ও দিশাশীল ছিল না । আমি যা বলতে পারি নি-- সেই সবই ভাববাদের গোড়ার কথা ।

যে কোন সঙ্ঘবদ্ধ জলে, জলদলে, জলকণাগুলি নিজস্ব মৌলতাহীন । জলকণার স্বভাবজ যে জল্কনা – যার ওপর টুকটাক ওড়ে খেলুড়ে ফড়িং । সেই ফড়িং জলাশয়ের ওপর চতুর ও নিবিষ্ট হয়, প্রজনন হেতু । এই কথা অদ্বৈতবাদের গোড়ার ।

দ্বৈতবাদ নিষিদ্ধ ব্র্যাকেটশহরে ।
--

Mr. bean said – All realizations are interpretation of data acquired by your senses. Since, all the senses are suspect, realizations attained through them are thus uncertain, suspect.

বানচাল হয়ে যাওয়া
হেঁসেল গণিকালয়ে
অপরিহার্য ভুল
এই ভুল নির্মাণে লেগেছে
ধারা ও ধারণায়
ধারণাজনিত সমস্ত গঠনে
রোদের পিঠের পাশে
পিঠ পাতা হয়েছে আমার
আমি সেই ফলার নিকটে
কারণ রাখিনি

লক্ষণীয়, পৃথিবীর সমস্ত জখম
ভিন্ন ও দূরপরায়ন
শুধু তার প্রবণতাগুলি
সমূহ গড়ার কাজে লাগে

রোদের পিঠের পাশে
পিঠ পাতা রয়েছে আমার
আর সূর্যোদয়ের বাঁ পাশে সন্দেহবাতিক এক সূর্যাস্ত উঠছে
--
আমরা বিষন্ন ছিলাম
আমাদের ওপর তৃপ্তির ছায়া পড়েছিল
সাপের খোলসে ভ্রান্ত নেউলের ছায়া
প্রকৃত অসম্ভবের গায়ে তথ্যের ছায়া পড়েছিল

এই এক অসম্পূর্ণ বিভাজিকা
যার গতি ও মতির দ্রুতি
ধরতে অসামর্থ্য চোখ
ফলে সমস্ত মাপে ও নিবিড়ানুপাতে
যেই বিভাজিকা অথর্ববিশেষ
তার ছায়া আমার অভেদে

এক বালুঘড়ির ভিতরে হয়েছিল আমাদের নীরবতা রাখা
আমাদের ছায়াগুলো কথা বলছিল
--
“এই সেই রোমীয় পথ, যার ছায়া পথপার্শ্বে পড়ে, কর্ষণ করে অটবীর মূল, অতসীর ঝুঁটি ও চকিতে ভ্রাম্যমান হয় । এই সেই ছায়া যা আজও মূল্যবান” -- রবি ঠাকুর এই গান বেঁধেছিলেন ১৯২২ খ্রীস্টাব্দে । সুর ; মিশ্র ভূপালি ঠুংরি,পর্যায়; বিবিধ (সূত্রঃ মিতবিতান, পৃঃ ৩২৬)। জনশ্রুতি, এই গান আদতে লেখেন বাবু কমল চক্রবর্তী ২০০৩ খ্রীস্টাব্দে এবং অদ্ভুত দূরদর্শী রবি ঠাকুর ১৯২২-তে বসে এই গান হড়প/আত্মসাৎ করেন । ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই ছায়ার জরীপকর্তা নিয়োগ করেন জ্যঁ লুক গোদার-কে । এই নিরন্তর হিংস্র ছায়ার একক নিয়ে ১৫৩৩ খ্রীস্টাব্দে গোদার সাহেব নির্মাণ করেন এক অবিস্মরণীয় তথ্যচিত্র “Shadow building : A whispering art” যা পৃথিবীর সর্বপ্রথম ক্যালাইডোস্কোপ ।
গতকাল আমার দেখা হয়েছিল ছায়াটির সাথে ক্যামেরার দোকানে । ছায়াটির পরণে ছিল তরুণ বর্ষাতি । গতকাল পৃথিবীর কোন কোণায় বৃষ্টিপাত হয়নি – যদিও রেডিয়োতে অশনিসংকেত হয়েছিল ।
--
সৌর মন্ডল বললেন – একটা বিড়ি দিন –আমি দেখছি তাঁর গলার ওপর খেলা করছে কষ আর গীটারের তার । সৌর মন্ডল বললেন -- আর ভালো লাগে না, পোঁদে পোঁদে অপার্থিব লগ্নীকরণ ও জ্বালা । জ্বালা মোশাই ! আপনাদের সামুদায়িক রেশন কার্ডের ছাল ঘুনসি ভেদ করে আমার আনুমানিক পিত্তাশয়ে ঢুকে গেছে । পাথর মোশাই পাথর । ঘুঘনি খেয়েছেন কী পাউরুটি হয়েছেন । তারপর আপনার ঘুঘনি আপনার পাউরুটি ক্যোঁৎ ক্যোঁৎ করে কণ্বমুনির ছাগলের পেটে, শালো, ছাগলের পেটে ব্যাথা বোলে কথা । শকুন্তলা মারাবেন না বলে দিচ্ছি । অভিজ্ঞান যত খুশী দাগান পোঁদে, কিডনিতে, রাজা তো হবেন না রাজা আপনাকে চেখে চাউমিন করে দেবে আর পেচ্ছাপ মোশাই পেচ্ছাপই, চাহে সে পেচ্ছাপ গোলাপজল খেয়েই হোক আর কাতলার পেটে বুড়বুড়ি মেরেই হোক । দেখবেন এর পর বিরহী যক্ষিণী কেমন মেঘদূতম দিয়ে চুরুট ধরায় । শালোর কবিতার শখ ! দিন মোশাই এক খানা বিড়ি ।
(সূত্রঃ খান্ডবদাহন, বনপর্ব ; সম্পূর্ণ মহাভারত বাই পঞ্চানন হালদার, সং ; ১৯)
--
ব্র্যাকেটশহর
আমি ভাবি সমস্ত ছায়াই
পরিখাসক্ত
চারতলা থেকে যার ঝাঁপ
ফ্রেমবন্দী হয়
বাঘ ডাকে নয়ানজুলিতে
বাঘ ডেকে ওঠে বাথরুমে
সে ডাকের ছায়াগুলি
সমস্ত সৌরমন্ডলের
দর্পণপ্রসূত
বাঘ ডেকে ওঠে আর
নির্বিকার বিড়িখানি জঘনে জঘনে

জ্বলে
নেভে
জ্বলে
--

Sunday, March 13, 2011

লেখালিখি - বিনয় মজুমদার


অর্ঘ্যর 'অনুবর্তন' কবিতায় আমার একটা মন্তব্য ছিল, সেটাকে ব্যখ্যা করতে এই লেখাটার সাহায্য নিতে চাইছিলাম। এখানে বিনয় যেই 'পারটিকুলার-কে ইউনিভর্সাল' করে তোলার কথা বলেছেন, তেমন ইঙ্গিত আমি যেন অর্ঘ্যর লেখায় পাই। অবশ্য বিনয় বলেছেন তাঁর ওই ধরণের কবিতায় কল্পনা নেই, তবে অর্ঘ্য কিন্তু এর বাইরে বেরিয়ে কবিতার পরিসরকে আরও বড় করে তোলে।

John Cage



এইটায় সুর রয়েছে, কিন্তু শুনলেই বুঝতে পারবে কি ধরনের কম্পোজিশন। ওঁর সঙ্গীত প্রায়-গাণিতিক। 


গাণিতিকতার ব্যাপারটা আরো বোঝা যাবে এখানে। এখন কথা হলো এই যে এই সঙ্গীত অনেক কবিকে জাগায়। আমার বেলায় সেটা হলো না। আবার অনেক ফিল্ম    আমাকে লেখা দেয় যা হয়তো অন্য কাউকে দেবে সহিতের মৃত্যু।

Saturday, March 12, 2011

যে কেউ আলো হয়ে গেলে তোমাকে পাবে ?

ধরো

আমি

এক পা এক পা

মাটি সরে সরে পিছনে

আস্তে ধীরে

সরণের জেদে ভেঙে দিলাম আলোর সীমানা


তোমাকে পাবো ?


পুরোনো সমীকরণ তবু সহজ হল না কোনোদিন...


একটা গল্প তৈরির অবকাশে হাত রাখা যায় এখন...


ধরো

সানকির তলানিতে দুমুঠো অন্ন

বিপন্ন রূপকথা

হাঁটু মুড়ে বসে আছে

রাতবাহানায় আলগামুঠি ঠাকুমার ঝুলি

ভাতগন্ধে অরূপ মেখে ঢলছে জোছনা


নিমাত্রা কিশোরীবুকে নিপাত্তায় থাকছে পদার্থ

অথচ গতির পরোয়ানা নিয়ে পাড়ি জমালো আলো


আইনস্টাইনের দক্ষিণ বাহুতে তখন

মেদুর হচ্ছে স্কোয়ার

সমীকরণ

............গলে

..................গলে

........................পরম নামছে নিঃশব্দ নিরূপমে


এনার্জিকে পরম বললে গল্পটা কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায় না। একটা উপসংহার চাই। মিলনান্তক হোক বা বিয়োগান্ত। চলো তাহলে, আরো একটু হাঁটা যাক...


হাঁটাপথে কুড়োনো বস্তুগুলো

অনড় বুনছে উলকাঁটায়

জালি জালি বুননের গহীনে জড়ানো জীবন

মাত্রা ও চারুকলা ধীরে জমে ওঠে তরুণীবুকে


মাত্রা কুড়োতে গিয়ে এভাবেই বস্তুরা

চারিদিকে স্তূপ

ক্রমে মন্থর হয়ে আসে নিতম্বধ্বনি

গতিহারানো আপেলালিত দিনে

রাতঅশ্বিনী ডাকেকিনাডাকে


আলো তখন নামছে আলেয়ায়

নিখোঁজ পরম